
বিশেষ প্রতিবেদক: মামলা-মোকদ্দমা, জটিলতা আর দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে অবশেষে যেন প্রাণের সুর ফিরে পেল কাকরাইলের ঐতিহ্যবাহী ‘কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি অ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমবায় সমিতি লি:’। গত ১৪ আগস্ট ভবনের চতুর্থ তলার মাল্টিপারপাস হলে এক আবেগঘন ও আনন্দময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমিতির বিশেষ সাধারণ সভা ও নির্বাচন–২০২৬।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার লোভে আমিন হারবাল (হেনোলাক্স)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিন অন্যায়ভাবে কর্ণফুলীর দখল নিয়ে রেখেছিলেন। শুধু তাতেই তারা ক্ষান্ত হননি, জালালাবাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীবকে বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা মামলা ও হামলা দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চরম হয়রানি করেন। তবে সত্যের জয় নিশ্চিত করে অবশেষে বিজ্ঞ আদালত তাদের দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা খারিজ করে দেন।
সকল দ্বন্দ্ব ও আইনি জটিলতায় ইতি টেনে, ৬০টি পরিবারের বাসিন্দাদের পূর্ণ আস্থা অর্জন করে জালালাবাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সভাপতি পদে।
কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন-
সহ-সভাপতি: কাজী রাউফুজ্জামান
সম্পাদক: মোঃ ফরহাদ আলী খান
কোষাধ্যক্ষ: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন
সদস্য: হাসিনা ইকবাল

মেট্রো থানা সমবায় অফিসার (মোহাম্মদপুর) মোঃ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ (তিন) সদস্যের নির্বাচন কমিটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
একটি সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। আদালতে গড়িয়েছিল দেওয়ানি মামলা, সমবায় অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং অতীতে ৩ (তিন) জন সমবায় কর্মকর্তার গ্রেফতারের মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছিল। কিন্তু সব আইনি বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আজকের এই শুভ পরিণতি যেন পুরো আবাসিক পরিবারের জন্য এক পরম স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
নির্বাচন শেষে এক আবেগঘন বক্তব্যে পুনর্নির্বাচিত সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব বলেন,
“প্রায় ২৭-২৮ বছরের পুরোনো এই ভবন আমাদের শুধু মাথার ওপরের ছাদ নয়, এটি আমাদের একটি পরিবার। বিগত দিনে এসব মামলা-মোকদ্দমা চালাতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ২২ লাখ টাকা ব্যয় করেছি ঠিকই, তবে তা কোনো অভিযোগ থেকে নয়-এই ভবন আর এর বাসিন্দাদের ভালোবাসার জায়গা থেকে করা। আমরা অতীত ভুলে সবাইকে নিয়ে এগোতে চাই। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে চারতলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত জরুরি ‘বিকল্প সিঁড়ি’ তৈরি করা আর পুরোনো লিফটগুলো আধুনিকায়ন করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।”
সব দ্বন্দ্ব ও বিভেদ পেছনে ফেলে নিজেদের আবাসনকে নিরাপদ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলার দৃপ্ত শপথের মধ্য দিয়েই শেষ হয় এই আয়োজন।



