পূর্বের তদন্তের অগ্রগতি এখনো অজানা, নতুন করে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার সম্পত্তির দলিলে মোর্শেদ আলম

এম শাহীন আলম :
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদে কর্মরত সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ অর্থ লেনদেন ও সরকারি তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে ২০২৫ সালের ২৩ জুন আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ওই তদন্তের অগ্রগতি বা ফলাফল কী হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।




এদিকে ২০২২ সালের একটি সাফ কবলা দলিলের তথ্য অনুসন্ধানে মোর্শেদ আলমের নাম পাওয়া গেছে। দলিল অনুযায়ী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বজ্রপুর মৌজায় প্রায় ১০ শতাংশ জমি ও পুরোনো স্থাপনা নিয়ে যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তিটির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জমির মূল্য ১ কোটি ৬৫ লাখ এবং পুরোনো স্থাপনার মূল্য ১০ লাখ টাকা উল্লেখ রয়েছে।
তবে দলিলে সম্পত্তির মোট মূল্য ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা উল্লেখ থাকলেই পুরো অর্থ মোর্শেদ আলমের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ এমন দাবি করার সুযোগ নেই। তিনি যৌথ মালিকদের একজন হওয়ায় তার প্রকৃত আর্থিক অংশ কত এবং সেই অর্থের উৎস কী এটাই এখন অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রাপ্ত প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল তোফায়েল ও মো. রফিকুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং তাকে অন্যত্র বদলির আবেদন জানান।
পরবর্তীতে ১৯ মে ২০২৫ তারিখের স্মারকের মাধ্যমে অভিযোগটি কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে ২৩ জুন ২০২৫ তারিখে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই চিঠির স্মারক নম্বর
০৫.২০.১৯০০.০০৯.৩৯.০৮.২৫.৫৯১।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—তদন্তটি আদৌ সম্পন্ন হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না।
মোর্শদ আলমকে নিয়ে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর কুমিল্লা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত সাফ কবলা দলিলের তথ্য অনুযায়ী, বজ্রপুর মৌজার ওই সম্পত্তিতে মোর্শেদ আলমের নাম রয়েছে।
সম্পত্তিটির মালিকানার আগের ইতিহাসও দলিলে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ১৯৭৬ সালের একটি সাফ কবলা দলিল, পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ ও ২০১৭ সালের আপোষ বণ্টননামার মাধ্যমে মালিকানা ও অংশ নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। পরে নামজারি ও জমা খারিজের তথ্যও রয়েছে।
তাই শুধু সম্পত্তির মোট মূল্য নয়, ২০২২ সালে ক্রয়ের সময় মোর্শেদ আলমের প্রকৃত অংশ কত ছিল এবং তিনি সেই অংশের মূল্য কীভাবে পরিশোধ করেছেন তা যাচাই করা জরুরি।
মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় সম্পত্তি ক্রয়ের অর্থের উৎস নথি ভিত্তিক ভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। এজন্য তার বৈধ আয়, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর রিটার্ন, সরকারি চাকরিতে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী এবং সম্পত্তি কেনার অর্থ পরিশোধের নথি যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে সম্পত্তিতে তার প্রকৃত মালিকানা ও আর্থিক অংশ কত, সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পুরো বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো ২০২৫ সালের ২৩ জুন জেলা প্রশাসনের তদন্ত নির্দেশের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? তদন্ত হয়ে থাকলে প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কি না, মোর্শেদ আলমের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না এবং কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না তা জানাও প্রয়োজন।
আর তদন্ত শেষ না হয়ে থাকলে জেলা প্রশাসনের নির্দেশের পরও কেন তা শেষ হয়নি, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া জরুরি।
উপরোক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত মোর্শেদ আলম এর বক্তব্য জানতে তাকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারে একাধিক বার কল দিলেও তিনি মোবাইল ফোন কলটি রিসিভ করেননি।



