চলুন, সালাত নিয়ে একটু প্র্যাক্টিক্যাল আলোচনা করা যাক!

দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে কাজের ফাঁকে আমরা সালাত আদায় করি। কিন্তু সালাতে দাঁড়ানোর পর কি আমরা সত্যিই পুরোটা সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারি?
সালাতে দাঁড়ালেই মাথায় হিজিবিজি চিন্তা আসে। কত ক্রিয়েটিভ আইডিয়া , কত ফেলে রাখা কাজের কথা হঠাৎ মনে পড়ে যায়! আর এভাবে এক চিন্তা থেকে আরেক চিন্তায় ঘুরতে ঘুরতে কখন যে সালাত শেষ হয়ে যায়, বুঝতেই পারি না। ফলস্বরূপ, অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে কোনোমতে সালাত শেষ করে ফেলি।
কিন্তু এর ফলে কি হয় আমরা ভেবে দেখেছি? পরিপূর্ণরূপে সালাত আদায় না করার কারণে আমাদের মনের স্থিরতা নষ্ট হয়। কাজে, সময়ে,রিজিকে বারাকাহ্ কমে যায়। কেমন শূন্যতা ঘিরে ধরে। দিনশেষে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি।
সালাত তো শুধু দায়িত্ব শেষ করার নাম নয়। সালাত হলো আমাদের রব্বের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে সম্পর্ক নবায়নের উত্তম সময়।
নিজের নফসের সাথে, শয়তানের সাথে যুদ্ধ করে যদি আমরা সালাতে খুশু-খুযু ধরে রাখার চেষ্টা করি, সালাতের সময়টুকু শুধু আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখি,তাহলে ইনশাআল্লাহ সালাত যেমন সুন্দর হবে, তেমনি সালাতের প্রভাব আমাদের পুরো জীবনেও পড়বে।
আমরা কত সময় দুনিয়ার কাজের জন্য বের করি, অথচ সেই কাজের বরকতদাতা আল্লাহর জন্য কয়েক মিনিটও অস্থিরতা ও দুনিয়াবি চিন্তা করে কাটিয়ে দিই!
আল্লাহই সময়ের সৃষ্টিকর্তা। তাই সালাতে দাঁড়িয়ে মনে রাখতে পারি,আমি যদি কয়েক মিনিট মনোযোগ দিয়ে, ধীরস্থিরভাবে আমার রব্বের সামনে দাঁড়াই, তাহলে আল্লাহ চাইলে আমার বাকি কাজগুলো সহজ করে দিতে পারেন। যে কাজ করতে আমার দুই ঘণ্টা লাগার কথা, আল্লাহ চাইলে তা অল্প সময়েই সম্পন্ন করে দিতে পারেন।
আজ থেকে যেন সালাতকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভাবি৷ সালাতে দাঁড়ালে কিছুক্ষণের জন্য দুনিয়াকে পেছনে ফেলে দিই। মন বারবার অন্যদিকে চলে গেলে হতাশ না হয়ে আবার কিরাআতের দিকে মন ফেরাই। আয়াতের অর্থ নিয়ে ভাবি। রুকু ও সিজদাহ্তে তাড়াহুড়ো না করি। একটু ধীর হই। নিজের রব্বের সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতিটা হৃদয়ে ধারণ করার চেষ্টা করি।
দুনিয়াকে সুন্দর করার জন্যও আগে সালাতকে সুন্দর করি। কারণ, আমরা সালাতের মাধ্যমে এমন একজনের সামনে দাঁড়াই,যাঁর হাতেই আমাদের সময়,রিজিক, কাজ,ভবিষ্যৎ ও পুরো জীবন!



