গুলশান পোস্ট অফিসের ডাক সহকারী আবদুল কাদেরর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

স্টাফ রিপোর্টার:
গুলশান-১ নাম্বার পোস্ট অফিসের ডাক সহকারী আবদুল কাদেরর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সর্বমহলে প্রশ্ন উঠেছে এত ছোট চাকরি করে কিভাবে কোটি কোটি টাকা ও বাড়ির মালিক হলেন?
পোস্ট অফিসে কাউন্টারে যিনি বসেন তিনি মূলত পোস্টাল অপারেটর (Postal Operator) বা ডাক সহকারী (যাকে সাধারণ অর্থে কেরানী বা ক্লার্ক বলা হয়)।
তার এলাকা বা বাড়ির ভাড়াটিয়ার সূত্রে আবুল কাশেম নামেও পরিচিত বলে জানা যায়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, আব্দুল কাদের একজন আওয়ামীলীগ সরকারের দোসর ছিলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে বর্তমানে বিএনপি সরকারের নেতাকর্মীদের সাথে তাল মিলিয়ে তার দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা যায়। রায়েরবাগ কদমতলী থানা এরিয়ায় তার দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ি আছে দুর্নীতিবাজ আব্দুল কাদেরের। একটি বাড়ি বিক্রি করেছেন ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায়, দ্বিতীয় ডুপ্লেক্স বাড়ি ৪ তলা বিশিষ্ট বি-ব্লকে। ভিআইপি আলিশান বাড়িতেই আব্দুল কাদের বসবাস করেন বলে জানা যায়। তথ্য অনুযায়ী সরেজমিন তদন্ত করতে গেলে দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়, অপরাধ বিচিত্রার অফিসে বাড়ির ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে।
তিনি নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে এলাকা সূত্রে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা দাউদ কান্দিতে। আবদুল কাদেরর মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, দ্বিতীয় ডুপ্লেক্স ৪ তলা আলিশান বাড়ির কথা অপকটে স্বীকার করেন। তবে যে বাড়িটি বিক্রি করেছেন, সে বাড়ির কথা সরাসরি অস্বীকার করেন। মুঠো ফোনে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে বড় ক্ষমতাধর দাবি করে হঠাৎ অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
পোস্ট অফিসের এত ছোট চাকরি করে কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন জানতে চাইলে, তুই তাকারি করে অসভনীয় ভাষা ব্যবহার করে বলেন, তোর মাকে এবং তোর বোনকে পতিতালায় ভাড়া দিয়ে ইনকাম করে, ওই টাকা দিয়ে কোটি কোটি কোটি টাকার মালিক এবং বাড়ি করেছি। তোর সাহস থাকলে তুই আমার সাথে মতিঝিল আইডিয়াল কলেজের সামনে দেখা কর তোকে আমি দেখাইয়া দিব। তুই এই বিষয়ে সামনে আর বাড়াবাড়ি করবি না, আমি বাড়ি-গাড়ি করছি তাতে তোর কি? তুই আমাকে কিছুই করতে পারবি না (তার সাথে কথা বলার কল রেকর্ড অফিসে সংরক্ষিত আছে)।
আপনার খুটি জোর কোথায়? কার জোরে এত ক্ষমতা দেখাইতেছেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করতেছেন? জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন বোঝনা আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বড় নেতা ছিলাম, এখন বিএনপি সরকার আমলেও আমার ক্ষমতা মোটেও কমেনি। সরকারি পোস্ট অফিসে অশিক্ষিতরা চাকরি করতে পারেনা, তিনি নিশ্চয়ই স্নাতক পাস বা তার বেশি কম শিক্ষিত হবে। কিভাবে তিনি এত নিম্নমানের ভাষায় ইউজ করে একজন সিনিয়র গণমাধ্যম কর্মীকে গালিগালাজ করেন? সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। এ বিষয় পোস্ট অফিসের হাই কমান্ড কর্তৃপক্ষর কাছে প্রশ্ন থেকে যায় যে, একটি সরকারি অফিসের একজন চাকরিজীবী সদস্য কিভাবে এত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন? যেটা কখনোই জানা ছিল না, আব্দুল কাদেরেরও তো মা-বাবা, বোন এবং মেয়ে আছে।
এ বিষয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ তদন্ত করতে চিঠি পাঠানো হবে, পাশাপাশি পোস্ট অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দন্ত করে আব্দুল কাদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ বিচারের দাবি জানানো হল। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় অপরাধ বিচিত্রার (চৌকস টিম) জোরালোভাবে তদন্তের কাজ করছেন, আগামী পর্বের জন্য পত্রিকার পাতায় চোখ রাখুন।



