চট্টগ্রামে জমি দখল ও উচ্ছেদ নিয়ে পুলিশের কাছে সতর্কতামূলক নোটিশ

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রামে একটি জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সতর্কতামূলক আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে আল ফজল মুনিরী গাউসুল আজম ট্রাস্ট।
‘লিগ্যাল এথোস’ নামের একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই নোটিশে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চট্টগ্রামের জলালাবাদ (হাটহাজারী) ও পূর্ব নাসিরাবাদ (বায়েজিদ) মৌজায় অবস্থিত বিরোধপূর্ণ জমিটি তারা দীর্ঘদিনের নিবন্ধিত দলিলের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে ক্রয় করেছে এবং বর্তমানে ওই জমির একক দখলে রয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ২০১১ সালে ‘অন্য মামলা নং ১৩৫/২০১১’ দায়ের করে। ওই মামলায় ট্রাস্টের পূর্বসূরিদের বিরুদ্ধে একতরফা (এক্স পার্টি) রায় ও ডিক্রি দেওয়া হয়। নোটিশ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদেশ নং ৫২ এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রস্তুত ও ১৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত ডিক্রি জারি করা হয়।
ট্রাস্টের দাবি, তারা ওই মামলার পক্ষ ছিল না এবং তাদের কোনো সমন বা নোটিশ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে একতরফা ডিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে ট্রাস্ট ২০২৬ সালে চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা জজ আদালতে ‘অন্য আপিল নং ৪০/২০২৬’ দায়ের করে। তবে ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ওই আপিলটি তামাদি আইনের কারণে খারিজ হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্রাস্ট বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন দায়ের করেছে বলে নোটিশে জানানো হয়।
আইনি নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগ শুনানি শেষে ২০১১ সালের মামলায় দেওয়া একতরফা রায়, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এর আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট ডিক্রির কার্যকরকরণ (execution) স্থগিত করেছেন। এ বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের একটি সত্যায়িত অনুলিপিও নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নোটিশে পুলিশের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় উক্ত রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে বিরোধপূর্ণ জমিতে দখল নেওয়া, ট্রাস্টের দখলে হস্তক্ষেপ করা কিংবা কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক বা নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনা না করতে।
এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা হাইকোর্টের আদেশের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রমসহ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
নোটিশের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক, সিএমপি কমিশনার, সিএমপির উত্তর বিভাগের উপকমিশনার এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিরোধপূর্ণ জমিতে দখল নেওয়া বা ট্রাস্টের দখলে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অধীনস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ট্রাস্টের পক্ষে নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী মোকরাম্মুস শাকলান। নোটিশে ট্রাস্টের সব আইনগত অধিকার, স্বার্থ ও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সংরক্ষিত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।



