অপরাধ

পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হেনার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের তহবিল আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ব্যক্তিগত আইনি লড়াইয়ে স্কুলের টাকা ব্যবহারের মতো গুরুতর একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই স্থানীয় হুমায়ুন রশিদ নামে এক ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে ১৬ আগস্ট প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ৩০ আগস্ট দেওয়া তাঁর লিখিত জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় প্রশাসন। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান এবং পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ কালাম উল্লাহ।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে আবু হেনাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বরখাস্তের সেই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত স্থগিতাদেশ দেন এবং তিনি স্বপদে বহাল হন। তবে প্রধান শিক্ষক তাঁর সেই ব্যক্তিগত মামলার আইনি খরচ মেটাতে আইনবহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন ও ব্যয় করেছেন। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি ও অন্যান্য খাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে প্রধান শিক্ষক আবু হেনা জানান, নতুন করে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন। হাইকোর্টের আদেশেই তিনি পুনরায় দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুয়েব আহমদ স্পষ্ট করে জানান, আদালতের ব্যক্তিগত মামলার ব্যয় মেটাতে বিদ্যালয়ের সরকারি বা সাধারণ তহবিল ব্যবহারের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন জানান, প্রধান শিক্ষকের শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button