অনুসন্ধানঅপরাধএক্সক্লুসিভ

পুলিশ কর্মকর্তা ও পাট ক্রয় কর্মকর্তা দুই ভাইয়ের অবৈধ সম্পদের পাহাড়, দুদকের কাছে গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তা দুই ভাই সহকারি পাট ক্রয় কর্মকর্তা ইমরান এবং পুলিশের এসআই মাহফুজুর রহমান এর কাছে জিম্মি বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার বুড়ি গাংনী গ্রামের অসংখ্য মানুষ। ক্ষমতার উৎস অবৈধ অর্থ ও একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের প্রভাব এমনই অভিযোগ অসংখ্য গ্রামবাসীর।

সিনেমায় ভিলেন দেখা গেলেও বাস্তবে ভিলেনদের মুখোশ উন্মোচন হতে দেখা যায় খুব কমই। কিন্তু এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারিত গ্রামবাসী মুখ খুললেন, বুড়িগাঙনী গ্রামের সোহরাব মোল্লার পুত্র সরকারি চাকরিজীবী এসআই মোঃ মাহফুজুর রহমান ও ইস্টার্ন জুট মিলের সহকারী পাট ক্রয় কর্মকর্তা ইমরানের বিরুদ্ধে। গ্রামের মানুষের অভিযোগ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের একজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের অসংখ্য নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা, হয়রানি, জায়গা দখলসহ নানা রকম অত্যাচার করে চলেছে এই দুই ভাই। তাদের ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার না করলে বা অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে দেওয়া হয় মিথ্যা মামলার হুমকি ও অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলা যেখানে মিথ্যা মামলায় নিজেরা বাদী না হয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের অনুগত মানুষদেরকে ব্যবহার করা হয় মামলার বাদী হিসেবে। শুধু মামলা হামলা নয় মানুষের জায়গা দখল করে নিজেদের পছন্দসই মানুষকে তা বুঝিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছে সরকারি চাকুরিজীবী এই দুই ভাই এমনই অভিযোগ গ্রামবাসীর। অতিষ্ট গ্রামবাসী এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবশেষে অভিযোগ দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,পুলিশ হেড কোয়ার্টারে। মূলত নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের একজন প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে এসআই হয় মাহফুজুর রহমান। পরবর্তীতে যশোর পুলিশ লাইনে আর ও এক হিসেবে দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান মাহফুজুর রহমান অভিযোগ পত্রে এমনই তথ্য তুলে ধরেন গ্রামবাসী। গ্রামবাসীর পক্ষে অসংখ্য মানুষের স্বাক্ষরিত ওই আবেদনপত্রে আরো উল্লেখ করা হয় তাদের অনেক অবৈধ সম্পত্তির কথা। অভিযোগে যে সকল সম্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বুড়ি গাংনি গ্রামে একটি রাজকীয় বাড়ি, বিঘায় বিঘায় জায়গা, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের রড সিমেন্টের ব্যবসা, গাংনী বাজারে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা মূল্যের ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বিশাল মাছের প্রকল্প,খুলনা কেডিএতে দামি প্লট, যশোর পুলিশ লাইনের সামনে চারতলা বাড়ি, খুলনার টুটপাড়ায় পাঁচ কাঠ কাটার প্লট,এছাড়াও স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স, ব্যবসা, ইত্যাদি সহ আত্মীয়-স্বজনের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য তুলে ধরেছেন গ্রামবাসী। মূলত মাহফুজুর রহমান এবং ইমরান দুই ভাই সম্মিলিতভাবে এই সম্পদ গড়ে তুলেছে বলে জানান গ্রামবাসী।গ্রামবাসীর অভিযোগ তাদের এই অবৈধ অর্থের ক্ষমতা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার প্রভাব এই দুইয়ে তারা চরমভাবে অতিষ্ট। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তারা এত সম্পত্তির মালিক কিভাবে হলেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন গ্রামবাসীর‌।

সরকারি চাকরিজীবী হয়েও সহকারী পাট ক্রয় কর্মকর্তা ইমরানকে একটি মিডিয়াতে বলতে শোনা যায় আমরা আওয়ামী পরিবার আমার বাবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এখন প্রশ্ন হলো একজন সরকারি চাকুরিজীবী নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থনে এভাবে উঁচু গলায় কথা বলে কিসের ইঙ্গিত দিতে চান। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় শেখ হাসিনার জন্মদিনে ইমরানের অর্থায়নে তার ভাগিনা চাচা সহ একাধিক ব্যক্তি জন্মদিনের কেক কেটে উৎসব পালন করে। নিজ গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলটির অসংখ্য নেতাকর্মীদেরকে গোপনে অর্থায়ন করে সুসংগঠিত করার চেষ্টা চালানোর গুঞ্জন উঠেছে এসআই মাহফুজুর রহমান এবং সহকারী পাট ক্রয় কর্মকর্তা ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধে।সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে যা উন্মোচিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

যে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সেই রাজনৈতিক দলের পক্ষে মিডিয়াতে কথা বলে একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো অপরাধ করেছেন কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এ সকল বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ইমরান মোল্লা বলেন আমার বিষয়ে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা। অপরদিকে মাহফুজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোন উত্তর দেননি।

নিরীহ গ্রামবাসীর দাবি এই দুই ভাইয়ের অবৈধ অর্থের উৎস ও রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্পর্কে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে যা হতে পারে গ্রামবাসীর জন্য অনেক বেশি ভীতিকর ও আতঙ্কের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button