আইন-শৃঙ্খলা

সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় প্রধান আসামি আরিফসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে তারেক হোসেন বাপ্পিকে হত্যা এবং তাপসির আলম শাওনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাতে খাবার খেয়ে তারেক হোসেন বাপ্পি তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় আগে থেকে অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করা একদল ব্যক্তি তাঁদের পথরোধ করেন। পরে বাপ্পি ও তাঁর বন্ধুকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেন বাপ্পিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অন্য অভিযুক্তরাও তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় ইমন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

পরে বাপ্পিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে তাপসির আলম শাওন তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহত তারেক হোসেন বাপ্পির সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বাপ্পি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য একাধিকবার সামাজিকভাবে ও মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ববিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে বাধা মনে করে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন তাঁরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে বাপ্পির মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা শাওনও হামলার শিকার হন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

১.মো. আরিফ হোসেন (২৯) পিতা ইসমাইল হোসেন প্রকাশ বিকষু। সাং মধ্যম মাহমুদাবাদ, দিঘীর নালা, ফকির আহম্মদের নতুন বাড়ি, বাড়বকুণ্ড।

২.ফখরুল ইসলাম (৩২) পিতা মৃত নুর আলম। সাং অলিনগর, চৌকিদার বাড়ি, বাড়বকুণ্ড।

৩.আব্দুল মান্নান (২৮)পিতা আবুল কাশেম। সাং নডালিয়া, বাড়বকুণ্ড।

৪.মো. ইফতেখার (৩৫) পিতা মো. মোজ্জামেল হক। সাং অলিনগর, নতুন বদু বাড়ি, বাড়বকুণ্ড।

৫.আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫) পিতা মো. নজরুল ইসলাম। সাং হাসনাবাদ, জিয়াজি হুজরের বাড়ি, মুরাদপুর।

৬.রনি ওরফে নুর আহাম্মদ রনি পিতা মৃত জহির ইসলাম। সাং মধ্যম মাহমুদাবাদ, দিঘীর নালা, বাড়বকুণ্ড, সীতাকুণ্ড।

সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button