পিজি হাসপাতাল ল্যাব টেস্টের ভুল রিপোর্ট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে করণীয় ৫টি বিষয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক: রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্র বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)—যা সাধারণ মানুষের কাছে সাবেক পিজি হাসপাতাল নামে পরিচিত—সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য ল্যাব পরীক্ষা করিয়ে থাকেন। তবে ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর কেবল ফলাফলের ওপর নজর না দিয়ে, রিপোর্টটি প্রকৃতপক্ষেই কাঙ্ক্ষিত রোগীর কি না—তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্য রোগীর তথ্যের সাথে রিপোর্ট অদলবদল হওয়া বা ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে ভুল চিকিৎসা নেওয়ার মতো বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রদানকারীরা ৫টি মূল বিষয়ে জোর দিয়েছেন।
ল্যাব রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ৫টি করণীয়
১. নাম ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় মিলিয়ে নেওয়া:
রিপোর্টটি হাতে আসার সাথে সাথেই এতে থাকা নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং রেজিস্টার্ড পেশেন্ট আইডি (Patient ID) বা নম্বর আপনার প্রেসক্রিপশন ও ব্যক্তিগত তথ্যের সাথে শতভাগ মিলছে কি না তা ভালোভাবে দেখে নেওয়া দরকার।
২. মানি রসিদের তথ্য যাচাই:
হাসপাতাল থেকে প্রদত্ত ফি পরিশোধের রসিদ বা স্লিপের সাথে রিপোর্টের বারকোড, স্যাম্পল আইডি (Sample ID) ও ট্র্যাকিং নম্বর মিলিয়ে দেখা উচিত।
৩. পূর্ববর্তী রিপোর্টের সাথে ফল তুলনা:
হাতে পাওয়া নতুন রিপোর্টের ফলাফলের সাথে আগের যেকোনো রিপোর্টের তথ্য কিংবা বর্তমান শারীরিক অবস্থার অস্বাভাবিক অমিল পরিলক্ষিত হলে চিকিৎসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক।
৪. চিকিৎসকের নিকট রিপোর্ট পুনঃযাচাই:
ওষুধ দেওয়া বা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে আপনার চিকিৎসক সঠিক রিপোর্ট এবং সঠিক পেশেন্ট ফাইল পর্যবেক্ষণ করছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হোন।
৫. অনলাইন কিংবা ডিজিটাল রিপোর্টের ক্ষেত্রে সতর্কতা:
বর্তমানে অনলাইন ড্যাশবোর্ড বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডাউনলোডকৃত রিপোর্টের ক্ষেত্রেও নাম, বারকোড ও রেজিস্ট্রেশন আইডি সঠিকভাবে পরীক্ষা করা দরকার।
তথ্য বা রিপোর্টে অসঙ্গতি বা সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক করণীয়
- রিপোর্টটি শতভাগ সঠিক নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটির ওপর ভিত্তি করে কোনো ধরনের নতুন চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা ভুল অনুমানের আশ্রয় নেওয়া যাবে না।
- যেকোনো অসঙ্গতি ধরা পড়লে অবিলম্বে বিএমইউ ল্যাব কর্তৃপক্ষ বা প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সংশোধন করে নিতে হবে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কেবল ল্যাব রিপোর্টের ফল দেখে নিজে নিজে কোনো প্রচলিত ওষুধ বন্ধ করা বা নতুন ওষুধ সেবন করা চরম বিপজ্জনক হতে পারে।
রোগীর সার্বিক সুরক্ষা ও সঠিক চিকিৎসাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সামান্য ভুলত্রুটি এড়িয়ে চলাই হতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যতম উপায়।
আমাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক এই ধারাবাহিক সমন্বিত প্রতিবেদন ও সচেতনতামূলক তথ্যে নতুন কোনো সংযোজন বা সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে কি?



