রাজধানী

কারওয়ান বাজার ও কৃষি মার্কেটে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল বিনষ্ট

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ ড্রামে খোলা ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে রাজধানীর দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরীর কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে পরিচালিত তদারকি অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। এ সময় একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা আনুমানিক ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘Digitization of Fortification of Edible Oil for Improved Monitoring, Quality Control and Capacity Building’ প্রকল্পের আওতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। খোলা ভোজ্যতেলের বিক্রয় কার্যক্রম তদারকিতে অধিদপ্তরের পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করে।
অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল এবং প্রধান কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার রিয়াদ আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে মোহাম্মদপুর থানাধীন কৃষি মার্কেটের মেসার্স সততা স্টোরে ইউরিয়া ফরমালডিহাইডের ড্রামে বিক্রির উদ্দেশ্যে খোলা সয়াবিন তেল সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে ওই ড্রামে থাকা আনুমানিক ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়।

একই মার্কেটের হেলাল জেনারেল স্টোরেও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ ড্রামে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি ড্রামের গায়ে তেলের নাম, প্যাকেজিংয়ের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত লেবেল ছিল না। এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ ড্রামে খোলা ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত খোলা ভোজ্যতেলের পাত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত লেবেল প্রদর্শনের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যপণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে এ ধরনের বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button