রাজধানী

মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে অটোরিকশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সরকারের

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের অপচয় রোধে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে সরকার। অতি সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে মহাসড়ক এবং রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত ও থ্রি-হুইলার অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে চালক ও সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় রেখে অলিগলি বা ফিডার রোডে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় এসব বাহন পরিচালনার শৃঙ্খলা নীতি তৈরির পরিকল্পনা চলছে।

নতুন সিদ্ধান্ত ও সরকারের মূল উদ্যোগসমূহ

১. মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে কঠোর নিষেধাজ্ঞা: ঢাকা শহরসহ দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে কোনো অবস্থাতেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উঠতে দেওয়া হবে না। এই নির্দেশ অমান্য করলে অবৈধ যানবাহন জব্দ ও ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

২. ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোড ব্যবস্থা: শহর এলাকার অভ্যন্তরীণ ও ফিডার সড়কে বৈধতা যাচাই, অতিরিক্ত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে কিউআর কোড (QR Code) ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

৩. নীতিমালা ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া: অটোরিকশার অযাচিত বৃদ্ধি থামাতে এবং নিরাপদ ডিজাইন বজায় রাখতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিআরটিএ-র মাধ্যমে নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন ও নীতিমালার আওতায় আনার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

৪. অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও চার্জিং স্টেশন বিচ্ছিন্নকরণ: জাতীয় বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার রোধ করতে অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

সুদীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে এবং নগরীর প্রধান সড়কে অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্চগতির অটোরিকশার কারণে যানজট, ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং সড়ক বিশৃঙ্খলা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া অবৈধ চার্জিং পয়েন্টগুলোর কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছিল।

জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সরকারের এই সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে সর্বস্তরের নাগরিক, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ পথচারীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। একটি আধুনিক, নিরাপদ ও দুর্ঘটনা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে গতিশীল শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিকল্প ছিল না। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ ও একই সাথে বাস্তবমুখী নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ দেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

নগরবিদদের মতে, প্রান্তিক চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থান বা নির্দিষ্ট অলিগলির সীমানার মধ্যে বিধিবদ্ধভাবে চলাচলের সুযোগ রেখে সরকার যে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুদৃঢ় পথ বেছে নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। দেশের নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে এ ধরনের সাহসী উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেই দেশবাসী প্রত্যাশা করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button