চট্টগ্রামে এনসিপি নেতা তানভীরুলের বিষপানে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা তানভীরুল ইসলামের (২৬) মৃত্যু হয়েছে। বিষপানে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বিষপান করেছিলেন। তবে এটি আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।
বুধবার রাতে তানভীরুলের মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়। তিনি এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বায়েজিদ থানা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বিষপানের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তানভীরুল। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
তানভীরুলের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার হিলপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা মো. আবু ইউসুফ এবং মা তাসলিমা বেগম। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
তানভীরুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মইনুদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তানভীরুল। ওই সময় তাঁর কোমরের এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি তালিকাভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধা ছিলেন।
আরিফ মইনুদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই তানভীরুলকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছিল। গুলির ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় তাঁকে নিয়মিত হাসপাতালে যেতে হতো। শারীরিক অসুস্থতা ও তীব্র ব্যথার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ব্যথার কারণে তানভীরুল প্রায়ই খুঁড়িয়ে হাঁটতেন। কখনো কখনো যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটিও করতেন। দীর্ঘদিনের এই শারীরিক কষ্ট তাঁর জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল বলে মনে করেন আরিফ মইনুদ্দিন।
তবে দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে তানভীরুলের মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীর বক্তব্য থাকলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল আলম আশেক জানান, তানভীরুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তানভীরুল বিষপানের পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া একজন তরুণ রাজনৈতিক নেতার এমন মৃত্যু ঘিরে তাঁর দীর্ঘদিনের শারীরিক দুর্ভোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী পরিস্থিতি কাজ করেছে, তা নিশ্চিতভাবে জানতে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিবেদনের তথ্য প্রয়োজন।
তানভীরুলের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোক বিরাজ করছে। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আরও স্পষ্ট হতে পারে।



