গণধর্ষণ ও মানব পাচার মামলায় জীবন চৌধুরী গ্রেপ্তার, ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা পুলিশের অভিযানে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও মানব পাচারের অভিযোগে জীবন চৌধুরী ওরফে মিন্টু কান্তি সুশীল (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ সকালে কিশোরী সাদিয়া আক্তারকে ডেকে নিতে তাঁর পরিচিত মুন্নি আক্তারের মা তাঁদের বাসায় যান। মুন্নি অসুস্থ এবং চিকিৎসকের কাছে যাবেন-এমন কথা বলে সাদিয়াকে সঙ্গে নেওয়ার কথা জানান। পরে সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সাদিয়া মুন্নির বাসায় যান। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মুন্নি নিজের চোখের চিকিৎসার কথা বলে সাদিয়াকে নতুন পোশাক পরিয়ে দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে বাসা থেকে বের হন। পরে দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁকে নিয়ে খুলশী থানার ওয়াসা মোড় এলাকার আবাসিক হোটেল লাইট পার্কের তৃতীয় তলার বি-৮ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন।
কিশোরী হোটেলটি চিকিৎসকের চেম্বার নয় বুঝতে পেরে আপত্তি জানালে মুন্নি তাঁকে চুপ থাকতে বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কক্ষে জীবন চৌধুরী ও আরও দুই অজ্ঞাতপরিচয় নারীকে দেখতে পান সাদিয়া। সেখান থেকে বাসায় ফিরে যেতে চাইলে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মুন্নি কিশোরীকে জীবন চৌধুরীর সঙ্গে হোটেলের বি-৮ নম্বর কক্ষে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে চলে যান। এ সময় কিশোরী কান্নাকাটি করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জীবন চৌধুরী জোরপূর্বক তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর মা।
এজাহারে আরও বলা হয়, ৯ অক্টোবর২০২৬ইং সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে বাসায় ফিরে আসে কিশোরী। মেয়ের শারীরিক অবস্থা দেখে মা শাহিনা আক্তার তাঁর কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে মেয়ের মা বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের বিষয়টি জানার পরপরই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খুলশী এলাকা থেকে অভিযুক্ত জীবন চৌধুরী ওরফে মিন্টু কান্তি সুশীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৯ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৯(৩)/৩০ ধারা এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/১১ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কিশোরীকে হোটেলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মুন্নি আক্তারের ভূমিকা এবং এ ঘটনায় অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।



