অপরাধ

রাউজানে ৮ বিদেশি পিস্তল প্রদর্শনের ভিডিও ভাইরাল, আলোচনায় হৃদয় বুলেট

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজানে এক যুবকের আটটি বিদেশি পিস্তল প্রদর্শনের ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে কাপড়ের ওপর সারিবদ্ধভাবে সাজানো একাধিক পিস্তল প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে, প্রদর্শিত অস্ত্রগুলো অবৈধ এবং এর মধ্যে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও রয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওতে অস্ত্র প্রদর্শনকারী যুবককে ‘হৃদয় বুলেট’ নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বাদশার ছেলে হৃদয় বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত বুধবার রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকে ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি ‘হৃদয় বুলেট’ নামে পরিচিত এবং তিনি রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বুধবার সকালে তিনি জানান, ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হৃদয় বুলেট নামে ওই যুবককে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছ কোথায়? ভালো হয়ে যা, চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি।’ তবে এই বক্তব্য কাকে উদ্দেশ করে দেওয়া হয়েছে, তা ভিডিও থেকে স্পষ্ট নয়। ভিডিওটি প্রকাশের মাধ্যমে রাউজান প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট যুবককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পোস্টদাতা।

এদিকে গত দুই বছরে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ, রাজনৈতিক বিরোধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাউজান দেশের আলোচিত সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রধারীদের তৎপরতা, পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেওয়া এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটটি বিদেশি পিস্তল প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে অস্ত্রগুলোর প্রকৃত উৎস, বৈধতা এবং ভিডিওতে প্রদর্শিত ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, ভিডিওটির সত্যতা ও উৎস যাচাইয়ের কাজ চলছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্ত, অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান নিশ্চিত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে রাউজানে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button