শিক্ষা

লাকসামে বার্ষিক পরীক্ষার সামনে স্কুলসংলগ্ন মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার লাকসামে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে রেলওয়ে আইডিয়াল একাডেমি-সংলগ্ন লাকসাম জংশন রেলওয়ে ক্লাব মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজন ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মাঠজুড়ে ৪৭টি স্টল ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক রাইড স্থাপনের উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা যখন একেবারে সামনে, ঠিক সেই সময়ে বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন এলাকায় মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজন শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। মেলায় উচ্চ শব্দ, মানুষের ভিড়, আলোকসজ্জা ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, পরীক্ষার আগে এই ধরনের আয়োজন আমাদের পড়াশোনায় মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটাবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আকরাম আলী এবং কার্যনির্বাহী সদস্য শহিদুল্লাহর কাছে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে কল দিলে ফোন কয়েকবার চেষ্টা করার পড়েও কলে পাওয়া যায় নি।

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাচ্চাদের সামনে পরীক্ষা রেখে এই ধরনের আয়োজন মোটেও বোধগম্য নয়। এখন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার সময়। এমন পরিস্থিতিতে মেলার আয়োজন তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।”

এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, মেলাটি রেলওয়ের জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জায়গায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেখানে অনাপত্তি দিচ্ছে, সেখানে আমার কী করার আছে? তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যেতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ শব্দে গানবাজনা, ডিজে পার্টি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মেলাটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে মাঠে স্টল ও বিনোদনমূলক রাইড স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মেলার আয়োজক রুবেল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গেলে তিনি বক্তব্য দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। তবে তিনি জানান, মেলায় শিশুদের খেলনা, কসমেটিকস, হস্তশিল্প, খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের মোট ৪৭টি স্টল থাকবে। পাশাপাশি নৌকা, দোলনা ও নাগরদোলার মতো বিনোদনমূলক রাইডের ব্যবস্থাও রাখা হবে। মেলা আয়োজনের অনুমোদন চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে আবেদন করা আর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমোদন, মাঠ ব্যবহারের বৈধতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়গুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, নাকি বিনোদনের আয়োজন কোনটি অগ্রাধিকার পাবে?

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাণিজ্য মেলা আয়োজনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন আয়োজন কতটা যৌক্তিক, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠসংলগ্ন এলাকায় মেলার কারণে শব্দদূষণ, যানজট ও জনসমাগমের সম্ভাব্য প্রভাবও খতিয়ে দেখা জরুরি।

এ অবস্থায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মেলার সময়সূচি, স্থান ও আয়োজনের যৌক্তিকতা পুনর্বিবেচনা করা হোক। প্রয়োজনে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

কারণ, একটি মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার চেয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষার প্রস্তুতি কোনোভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button