ঢাকা বিভাগ

রক্তাক্ত খিলক্ষেত বাজার মৃত্যুর সাথে ঢাকা মেডিকেল  হসপিটাল পাঞ্জা লড়ছেন ওরা কয়েকজন মানুষ!!

​নিজস্ব প্রতিবেদক: ​ঢাকার খিলক্ষেত বাজারে সামান্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়েছে রাজপথ। এই ঘটনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ব্যবসায়ী মোতালেব।তথ্য জানিয়েছেন তার পরিবার।

​ঘটনার বিবরণ ও হতাহত

​সরেজমিনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অতি সামান্য একটি বিষয় নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত হয়। যা পরবর্তীতে নৃশংস রূপ ধারণ করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ব্যবসায়ী মোতালেবের মাথার খুলির হাড় ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

​অন্যদিকে, সংঘর্ষে যুবদল নেতা লিটনের পা ভেঙে ৪-৫ টুকরো হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও যুবদল কর্মী হেলাল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুনসহ আহত হয়েছেন রিপন, রাসেল, রনি ও শাহজাহান। সর্বমোট প্রায় ১০-১২ জন এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জখম হয়েছেন।

​ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ

​খিলক্ষেত বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের প্রশ্ন—সামান্য কারণে কি মানুষের জীবনের চেয়ে অর্থ ও আধিপত্য বড় হয়ে দাঁড়াল? একজন মা তার সন্তানের জন্য, একজন স্ত্রী তার স্বামীর জন্য হাসপাতালের বারান্দায় যে আহাজারি করছেন, তার দায়ভার কে নেবে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে সাধারণ নাগরিকরা।

​দখলদারিত্ব বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

​স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দাবি, খিলক্ষেত ও এর আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে চলা দখলদারিত্বের রাজনীতিই এই ধরনের সংঘর্ষের মূল কারণ। তারা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর-এর দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

​সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার

​ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন:

১. এই নৃশংস ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়।

২. প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

৩. ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়।​”মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—এই মূলমন্ত্রকে পদদলিত করে যারা রক্তপাত ঘটিয়েছে, তাদের বিচার এখন সময়ের দাবি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button