প্রশাসন

বদলি আদেশ তুচ্ছ করে মুরাদনগরে বহাল এএসআই আল-আমিন, জনমনে চরম ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুরাদনগর ‘গভীর কৌশলই দাবার আসল সৌন্দর্য’—এই নীতিকে যেন নিজের কর্মজীবনেও প্রয়োগ করছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার এএসআই আল-আমিন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘুষ গ্রহণ, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতার পাহাড়সম অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনকভাবে তিনি এখনো থানায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বদলির আদেশ আসার পরও কর্মস্থল না ছাড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা প্রতিকার চেয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক হলো:
মিথ্যা মামলার হুমকি: বি-চাপিতলা গ্রামের টাইলস কন্ট্রাক্টর নাছির উদ্দিন মাদক স্পট শনাক্তে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করায় তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন আল-আমিন।
ঘুষ বাণিজ্য: খবির ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে ৭০ হাজার টাকা এবং সিএনজি চালক ইমরান হোসেনের কাছ থেকে চুরির অপবাদ দিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নারীদের হয়রানি: হাসপাতাল কর্মী গোলাপী আক্তার ও আকুবপুর গ্রামের আকলিমা আক্তারের কাছ থেকে স্বজনদের মামলা থেকে বাঁচানোর প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ ও দামি মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবৈধ মাসোয়ারা: এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও ভেকু ব্যবসা থেকেও তিনি নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এসব অপকর্মের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে তাকে রাঙামাটি জেলায় বদলি করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান তার বদলি বাতিলের আবেদন নাকচ করে দিলেও ‘অদৃশ্য প্রভাবে’ তিনি এখনো বাঙ্গরা বাজার থানায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী দিয়ে অভিযোগকারীদের হুমকি দিচ্ছেন যাতে তারা অভিযোগ তুলে নেয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই আল-আমিন তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করলেও, বদলি হওয়ার পরও কেন স্টেশনে অবস্থান করছেন সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম-এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এএসআই আল-আমিনের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
দ্রুত এই অসাধু কর্মকর্তার হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাঙ্গরা বাজার থানার সাধারণ মানুষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button