আশুলিয়ায় অনুমোদনহীন ‘পদ্মা’ ও ‘হিমালয়’ গেস্ট হাউজে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

মাহবুব আলম মানিক: সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও নথিপত্র ছাড়াই দীর্ঘ দিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে ‘পদ্মা গেস্ট হাউজ’ ও ‘হিমালয় গেস্ট হাউজ’। আবাসিক হোটেলের আড়ালে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি গেস্ট হাউজ বা আবাসিক হোটেল পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্র এবং অতিথিদের তথ্য নিবন্ধনের মতো আইনি শর্ত পালন বাধ্যতামূলক। কিন্তু পদ্মা ও হিমালয় গেস্ট হাউজের ক্ষেত্রে এসবের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের চেয়ে রাতে এসব প্রতিষ্ঠানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষের সংক্ষিপ্ত অবস্থানের নামে এখানে দেহব্যবসা ও অসামাজিক কাজ চলে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে ঘণ্টার হিসেবে রুম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আশেপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পারিবারিক পরিবেশ থাকায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী একাধিক বাসিন্দা জানান, বিষয়টি বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একে বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাইপাইলে অবস্থিত পদ্মা ও হিমালয় গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মো. কাজলের কাছে নথিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তিনি বলেন, “কাগজপত্র কী আছে তা আমার জানা নেই। তবে স্থানীয় অনেক সাংবাদিকই আমাদের এখানে নিয়মিত চা পান করতে আসেন। আপনারও দাওয়াত রইল, সময় করে একদিন আসিয়েন।” তার এমন বক্তব্যে গেস্ট হাউজ দুটি পরিচালনায় অসাধু সিন্ডিকেটের প্রভাবের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আবাসিক হোটেলের নামে অনুমোদনহীন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আশুলিয়ার সামাজিক পরিবেশ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় এই অনুমোদনহীন গেস্ট হাউজগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনার জন্য স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।



