আইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রাম

চেতনানাশক খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অটোরিকশাচালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় আন্তঃজেলা অপরাধচক্রের অন্যতম দুর্ধর্ষ সদস্য গালকাটা জামাল নামে পরিচিত মোঃ জামাল (৫২) ও তার সহযোগী মোঃ আব্দুল জব্বার (৩১) কে গ্রেফতার করেছে আনোয়ারা থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহত আইয়ুব আলী (৫৫) দৈনিক ভাড়ার ভিত্তিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি নিয়ে গত ২০ এপ্রিল সকালে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পরে একই দিন আনোয়ারা থানাধীন শোলকাটা রাস্তার মোড় এলাকায় তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে গত ২৭ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আইয়ুব আলী।

ঘটনার পর নিহতের গাড়ির মালিক মোঃ আলী আহাম্মদ বাদী হয়ে গত ৬ই মে আনোয়ারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৯, ধারা-৩০২/৩২৮/৩৭৯ পেনাল কোডে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন।

চাঞ্চল্যকর এ ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে আনোয়ারা থানা পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবশেষে মূলহোতাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএমের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) সোহানুর রহমান সোহাগের তত্ত্বাবধানে এবং আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এসআই শিমুল চন্দ্র দাস, এএসআই নুরুল আফছার ও সঙ্গীয় ফোর্স বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে রবিবার ভোরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া ও পটিয়া থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় জামাল প্রকাশ গালকাটা জামাল ও তার সহযোগী আব্দুল জব্বারকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত গালকাটা জামাল দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে আন্তঃজেলা চেতনানাশক চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় অটোরিকশা ছিনতাই, চেতনানাশক প্রয়োগ এবং হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে। শুধু চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানাতেই তার বিরুদ্ধে অন্তত ৬টির বেশি মামলা চলমান রয়েছে।

পুলিশের দাবি, এই চক্রটি সাধারণত অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করে প্রথমে চেতনানাশক দ্রব্য খাওয়ায়, পরে অজ্ঞান বা মৃত্যুর মুখে ফেলে যানবাহন ছিনিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button