স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে সিডিউল বহির্ভূত সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশ থেকে এলজিইডি কর্মচারী তাসলিমার বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাস্তার বেইজ তৈরির কাজে উন্নতমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদার সেখানে অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের সুরকি, রাবিশ ও বালু ব্যবহার করছেন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী উত্তম বাবু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৌশলীর সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা না করেই ‘মানিক’ নামে এক প্রভাবশালী ঠিকাদার পুনরায় একই ধরণের নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার ভরাট কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “সরকার জনগণের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিলেও অসাধু ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কিত। নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ দিয়ে তৈরি এ রাস্তা প্রথম বর্ষাতেই ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” তারা অবিলম্বে এই কাজ বন্ধ করে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, কাজের মান নিয়ে কোনো ধরণের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ইতোমধ্যে বিতর্কিত নির্মাণসামগ্রীগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যথাযথ মান বজায় না রাখলে বিল পরিশোধ করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।



