
সাতক্ষীরা প্রতিনিধ: দেশের ক্রমবর্ধমান ঔষধ শিল্পকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র ও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত প্রতিনিধিদের প্রশাসনিক হয়রানির প্রতিবাদে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১১ মে ২০২৫) সকালে পাটকেলঘাটা বাজারের পাঁচরাস্তার মোড়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় ‘ফারিয়া’ (বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন) শাখা।
মানববন্ধনে স্থানীয় ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিবৃন্দ, ফারিয়ার নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ঔষধ প্রতিনিধিদের “দালাল” হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করে এই শিল্পকে ধ্বংসের পায়তারা চালাচ্ছে।
কর্মসূচিতে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “ঔষধ প্রতিনিধিরা দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অপমান ও হয়রানি করা মানে পুরো দেশের ঔষধ শিল্পকে পঙ্গু করে দেওয়া। আমরা অবিলম্বে এই অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানাই।”
সংগঠনের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সারাদিন রোদে পুড়ে আমরা চিকিৎসকদের সেবা দিয়ে থাকি, অথচ আমাদের ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করা হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। আমরা আমাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা চাই।”
সহ-সভাপতি মো. ওয়াসেক আলী ঔষধ শিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই শিল্প দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে। কোনো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কাছে আমরা মাথানত করব না।” সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হোসেন বলেন, “প্রশাসনের কাছে আমরা হয়রানি নয়, বরং সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। কেন্দ্রীয় ফারিয়ার নির্দেশনায় আমাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি অনতিবিলম্বে প্রতিনিধিদের প্রতি এই বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ না হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন শেষে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।



