রূপগঞ্জে ‘মাস্টার’ মশার কয়েলের আড়ালে বিষাক্ত বাণিজ্য
এম শাহীন আলম: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি কেমিক্যাল কারখানায় উৎপাদিত “মাস্টার” ব্র্যান্ডের মশার কয়েল নিয়ে ভয়াবহ অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ উঠেছে। মশা নিধনে দ্রুত কার্যকারিতার দাবি করলেও, কয়েলটি আসলে ব্যবহারকারীদের জন্য ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকায় অবস্থিত “মাহিম কেমিক্যাল” নামক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি বিধিনিষেধ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করে মশার কয়েল উৎপাদন করছে। বাজারে দ্রুত জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতা পেতে তারা কয়েলে অতিরিক্ত মাত্রার ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশাচ্ছে। এই মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হলেও মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানটি তা পরোয়া করছে না।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “মাস্টার” কয়েল জ্বালানোর সাথে সাথেই ঘরে এক ধরনের তীব্র ও অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে অনেকের চোখ জ্বালাপোড়া করা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, মাথা ঘোরানো এবং বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মাহিম কেমিক্যাল তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের পরিবেশগত ছাড়পত্র বা স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই আবাসিক এলাকার আশেপাশে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়রা বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার কয়েলে ব্যবহৃত রাসায়নিকের মাত্রা নির্ধারিত সীমার বাইরে গেলে তা মানুষের ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এসব বিষাক্ত ধোঁয়া ক্যানসার, অ্যাজমা এবং কিডনির জটিলতা সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া পণ্যটির লেবেলিংয়ে সঠিক তথ্য উল্লেখ না করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যা প্রচলিত ভোক্তা অধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।
মশা নিধনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে নয়। সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে “মাহিম কেমিক্যাল” কারখানায় অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত রাসায়নিক পরীক্ষা করা হোক এবং বাজার থেকে এই ক্ষতিকর কয়েল দ্রুত প্রত্যাহার করা হোক।
উল্লেখ্য, জনস্বার্থ রক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই নিউজ সিরিজ চলমান থাকবে।



