অনুসন্ধানঅপরাধঅভিযানএক্সক্লুসিভদুর্নীতিপ্রতারনা

ভোলা সদর থানার সাবেক ওসি মনিরের বিপুল অবৈ/ধ সম্পদের সন্ধান

​ভোলা সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জুয়ার আসর পরিচালনা, আটককৃত ইলিশ বিক্রি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে তিনি এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
​পাহাড়সম সম্পদের তালিকা
​‘পান্না প্যালেস’: বরিশাল নগরীর উত্তর অক্সফোর্ড মিশন রোডে অবস্থিত নিজস্ব সুউচ্চ ভবন।
​জমির প্লট: বরিশাল নগরীর কাউনিয়া ও আমতলা মোড় এলাকায় ওসি ও তার স্ত্রীর নামে একাধিক প্লট।
​ফার্মহাউস: বাকেরগঞ্জের উত্তর কাজলাকাঠি গ্রামে বিশালাকার ফার্মহাউস।
​স্ত্রীর সম্পদ: কোনো আয় না থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী শাহনাজ পান্নার নামে রয়েছে একটি প্রাইভেটকার, ১৩০ ভরি সোনা ও জমি।
​দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া
​অভিযোগের ইতিহাস: চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিন থানায় দায়িত্ব পালনকালে নারী আটকে রেখে চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
​রাজনৈতিক প্রভাব: বিগত সময়ে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের প্রভাবে তদন্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং তাকে ভোলা সদর থানায় পদায়ন করা হয়।
​বর্তমান অবস্থা: গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
​দুদক ও অভিযুক্তের বক্তব্য
​দুদক: দুদক বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এইচ এম আক্তারুজ্জামান জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনিরের আয়ের সঙ্গে সম্পদের স্পষ্ট অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​অভিযুক্তদের বক্তব্য: এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ওসি মনির মিটিংয়ের অজুহাতে ফোন রেখে আর যোগাযোগ করেননি। অন্যদিকে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তার স্ত্রী শাহনাজ পান্না ফোন কেটে দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button