অপরাধদুর্নীতিমিডিয়া

দৈনিক জনতার ছাপাখানা আইন লঙ্ঘন সার্কুলেশন জালিয়াতি শ্রম শোষণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র না দিয়ে বেআইনীভাবে চাকুরীচ্যুত করার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: দৈনিক জনতা পত্রিকায় মালিকপক্ষের সরলতার সুযোগ নিয়ে জেনারেল ম্যানেজার শ্রী বিষু কুমার দাসের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মালিকপক্ষের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও তার বিরুদ্ধে ছাপাখানা আইন লঙ্ঘন করে অন্য প্রেস থেকে পত্রিকা ছাপানো এবং সার্কুলেশনে জালিয়াতির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, শ্রী বিষু কুমার দাস কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগপত্র প্রদান না করে দীর্ঘ দিন ধরে শ্রম শোষণ করে আসছেন। যখন-তখন কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা, বেতন-ভাতা ও বোনাস প্রদানে প্রতারণা করা এবং আইন বহির্ভূতভাবে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। পত্রিকাটিতে সরকারি ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন প্রদান করা হয় না। বোনাস দেওয়ার নামেও চলে চরম প্রতারণা। প্রকৃতপক্ষে কর্মীদের কোনো কার্যকর সুযোগ-সুবিধা বা ন্যায্য বেতন দেওয়া হচ্ছে না; বেতনের নামে যা দেওয়া হয় তা ওয়েজবোর্ডের ন্যূনতম সীমার মধ্যেও পড়ে না।

দৈনিক জনতার সাংবাদিক-কর্মচারীদের প্রথম ওয়েজবোর্ড সমপরিমাণ সুবিধা না দিয়ে এবং তাদের সাথে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। অভিযুক্ত বিষু কুমার দাস শ্রম আইন, সংবাদপত্রের নীতিমালা এবং চাকরির বিধিবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দৈনিক জনতাকে নিজের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যবহার করছেন। তার এহেন কর্মকাণ্ডের ফলে সাংবাদিক ও কর্মচারীরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রী বিষু কুমার দাস সরকারের কাছ থেকে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিলেও তা নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন। তিনি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ মো. আতিকুল হাসানকে ‘পুতুলের ভূমিকায়’ রেখে একক কর্তৃত্ব চালাচ্ছেন। সারাদেশে সাংবাদিক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি যোগ্যতার চেয়ে নিজের পছন্দের লোকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যার ফলে দৈনিক জনতা বর্তমানে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বিস্তারের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মতে, তার এই কর্মকাণ্ড চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধের শামিল।

এদিকে, অভিযুক্ত জেনারেল ম্যানেজার শ্রী বিষু কুমার দাসের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দৈনিক জনতা পত্রিকার সহ-সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
একই সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে—সচিব (তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়), মহাপরিচালক (ডিএফপি), মহাপরিচালক (শ্রম অধিদপ্তর), সভাপতি/মহাসচিব (বিএফইউজে), চেয়ারম্যান (জাতীয় মানবাধিকার কমিশন), চেয়ারম্যান (জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন) এবং চেয়ারম্যান (জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন) বরাবর।
ভুক্তভোগীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই প্রতারক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংবাদপত্রের মর্যাদা রক্ষা করবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button