দেশ

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপহার সামগ্রী হস্তান্তর করেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

এবার চসিকের মোট ৩ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার পান। এ উপলক্ষে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগেও চলতি বছরের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করছেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াবে।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে আবাসন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে মোট ১ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ বর্গফুট। পাশাপাশি বর্ষাকালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সেজন্য রেইনকোট প্রদানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ, যার ওপর পুরো নগরের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এর ফলে নগরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা অনেকাংশে উন্নত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এখনও কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ময়লা পরিবহনের সময় সড়কে বর্জ্য পড়ে যাওয়া এবং যানবাহন দ্রুত চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

নগরবাসীর উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে চসিক বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের লক্ষ্যে রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করছে, অথচ আমাদের দেশে এখনও অনেকে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলছেন, যা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।

তিনি আরও জানান, বাসা থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও নাগরিকদের আপত্তির কারণে তা বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে চসিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, “এই শহর আমাদের সবার। আপনারা যদি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. আশরাফুল আমিন, ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ড. কিসিঞ্জার চাকমা, আনিসুর রহমান, হুমায়ুন কবির চৌধুরী, ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, জাহিদুল করিম কচি, শরফুল ইসলাম মাহি এবং প্রণব কুমার শর্মাসহ চসিকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button