আইন-শৃঙ্খলা

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শিশির মুন্না (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, কাতারে সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশির মুন্না ও তার সহযোগীরা এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ১১ লাখ ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে জাল ভিসা ও নকল বিমান টিকিট সরবরাহ করা হয়।

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ব্যবসায়ী টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ওয়ারী বিভাগের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে একই ধরনের প্রতারণার শিকার আরও ১৪ থেকে ১৫ জন ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় শিশির মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশির মুন্না সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচনি প্রচারণার ভিডিও নির্মাণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রমোশনাল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসা ও নকল বিমান টিকিট সরবরাহের মাধ্যমে তিনি প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য শিশির মুন্না নিজেকে বর্তমান ও সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে তিনি অনেককে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায়ও নিয়ে যেতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button