কুমিল্লায় সাংবাদিক শুভ্রর ওপর এক যুগের নিরবচ্ছিন্ন তান্ডব

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা: কুমিল্লা নগরীতে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এক সুসংগঠিত অপরাধী চক্রের ধারাবাহিক হামলা, চক্রান্ত ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিক ও পেশাজীবী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র। একের পর এক ফৌজদারি মামলা (GR & CR), কয়েক ডজন সাধারণ ডায়েরি (GD) এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে স্মারকলিপি দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
সর্বশেষ গত ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১-এ একটি সিআর (CR) মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৬১৫/২৫)। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়াও তাঁর ওপর হওয়া দস্যুতা ও হামলার ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আরও দুটি মামলা (এফআইআর নং ৪১ ও ৫১) বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ অনুযায়ী, এই অপরাধী চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করে। তারা দিনের আলোতে মুখে মাস্ক ও মাথায় লাল-কালো হেলমেট পরে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে চড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। চক্রের মূল পরিকল্পনাকারীর নির্দেশে একদল ভাড়াটে বখাটে ও ছিনতাইকারী ব্যবহার করে শুভ্রর পথরোধ, মারধর এবং ক্যামেরা-নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বারবার। এমনকি চক্রটি পুলিশের ভুয়া জ্যাকেট ও হাতকড়া ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে অপহরণ ও জিম্মি করার মতো গুরুতর অপরাধেও লিপ্ত বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
শারীরিক হামলার পাশাপাশি শুভ্রর বিরুদ্ধে চলছে ভয়াবহ সাইবার অপরাধ। অনিবন্ধিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও মেসেঞ্জারে তাঁর বিকৃত ছবি এবং কাফন মোড়ানো লাশের প্রতীকী ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে তাঁর ওপর এক ধরণের দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুভ্র গত ১০ মে ও ২৬ মে ২০২৬ তারিখে যথাক্রমে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এ ছাড়াও বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইজিপি, র্যাব মহাপরিচালক, প্রেস কাউন্সিলসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে “মানবাধিকার খবর”-এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী রিয়াজ উদ্দিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “একজন সাংবাদিক যদি এক যুগ ধরে প্রশাসনের আশ্রয়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘোরেন, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের একজন কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আর কালক্ষেপণ করা উচিত নয়।”
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আসামিরা অত্যন্ত ধূর্ত এবং ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগছে। তবে দ্রুতই পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
কুমিল্লার সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, আইনি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই ছদ্মবেশী অপরাধী চক্রকে নির্মূল করে সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।



