প্রশাসন

রূপগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নজরুল ইসলাম বাদল: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা ও এশিয়ান হাইওয়ের গোলাকান্দাইল এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী হাইওয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের সামনে এবং সকালবেলায় গোলাকান্দাইল স্টিল ব্রিজ এলাকায় যানবাহন থামিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে চালকদের হয়রানি করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবহন চালক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিয়মিত তল্লাশির নামে তাদের গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা দেওয়া কিংবা গাড়ি আটকানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। এই ব্যস্ততাকেই কেন্দ্র করে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য অবৈধ অর্থ আদায়ের সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, রেকার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল প্রশান্ত একসঙ্গে ১৫ থেকে ২০টি নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার আটক করেন। পরে ৮ থেকে ১০ জন চালকের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকা করে আদায় করার পর একটি রেকার বিলের বিপরীতে সবার স্বাক্ষর নিয়ে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ যাকে রসিদ দেওয়া হয়, তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়—এক মাসের মধ্যে তার গাড়ি আর আটক করা হবে না। এভাবেই পরিকল্পিত কৌশলে অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কনস্টেবল প্রশান্তের বিরুদ্ধে। এ কাজে কনস্টেবল পলাশও জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক চালক।

এ ছাড়া চার চাকার পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চালকদের অভিযোগ, কাগজপত্র যাচাই ও মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এসব অভিযোগে এসআই কাজলের নামও উঠে এসেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ যানবাহন আটক করা এবং যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা তাদের দায়িত্বের অংশ। তারা কোনো ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত নন।

এ বিষয়ে ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, “মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।”

এদিকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা। তাদের ভাষ্য, অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে বিভ্রান্তির অবসান ঘটানো উচিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button