মতামত

‘ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, শেষ বিচার আল্লাহর আদালতেই’- ২০১৮ সালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক লেখকের আত্মপ্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৮ সালে সত্য কথা বলার কারণে নানা ধরনের চাপ, ভীতি ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী বলেছেন, সময়ের পরিক্রমায় তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ক্ষমতা, অহংকার ও অন্যায় কখনোই স্থায়ী নয়। তাঁর ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত মানুষের কর্মের বিচার মহান আল্লাহই করেন।

সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি নিয়ে এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালে কিছু সত্য বক্তব্য প্রকাশ করার পর তাঁর কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় তিনি প্রশাসনিক চাপ, গোয়েন্দা সংস্থার ভীতি, সর্বক্ষণ নজরদারির আশঙ্কা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারের কারণে দীর্ঘদিন মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনলাইনে প্রকাশিত অনেক লেখা মুছে ফেলতে বাধ্য হন। এমনকি সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তাঁকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা অনেক মানুষ মনে করেন তাদের অবস্থান চিরস্থায়ী। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতা কখনো স্থায়ী নয়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে নিজের কাজের জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হয়।

তাঁর ভাষায়, “আল্লাহর বিচার খুব নীরবে আসে। কিন্তু যখন আসে, তখন তা অত্যন্ত কঠিন হয়। মানুষ একদিন নিজের কর্মের ফল নিজের চোখেই দেখে।”

তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতা, অহংকার ও জুলুম- সবই সাময়িক। মানুষের চূড়ান্ত বিচার কোনো পার্থিব আদালতে নয়, বরং মহান আল্লাহর আদালতেই হবে।

তবে বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমাশীলতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে তিনি সবাইকে ক্ষমা করার চেষ্টা করেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস, প্রতিশোধ নেওয়া মানুষের কাজ নয়; বিচার করার মালিক একমাত্র আল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, জীবনের নানা প্রতিকূল অভিজ্ঞতা তাঁকে ধৈর্য, আত্মসংযম ও আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শিখিয়েছে। সাময়িক কষ্ট বা অবিচারের কারণে হতাশ না হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতার ব্যবহার, জবাবদিহি, ন্যায়বিচার এবং ব্যক্তিগত নৈতিকতা নিয়ে সমাজে যে আলোচনা চলমান, এ ধরনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ বা দাবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রমাণনির্ভর অনুসন্ধানের গুরুত্বও সমানভাবে বিবেচ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button