অনুসন্ধানঅভিযানআইন ও বিচারঢাকাঢাকা বিভাগতল্লাশিদুর্নীতিনিখোঁজ

মতিঝিল থেকে আদম ব্যবসায়ী অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; দুই জেলার পুলিশের তৎপরতায় চাঞ্চল্য

মতিঝিল এলাকা থেকে আদম ব্যবসায়ী তাহের মিয়াকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) দুপুরে মতিঝিলের ২৮ দিলকুশা ফার্স্ট গ্লোবাল ওভারসিজ কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর একদল দুষ্কৃতকারী তাহের মিয়াকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাহেরের বন্ধু রফিক তার স্ত্রীকে জানান যে, কয়েকজন ব্যক্তি তাহেরকে তুলে নিয়ে গেছে।
পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের প্রায় তিন দিন পর ওয়াহিদ নামের এক ব্যক্তি ইমো নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে অপহরণকারী দলের নেতা পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। তিনি হুমকি দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাহের মিয়াকে হত্যা করা হবে।
একপর্যায়ে কৌশলে তাহের মিয়া তার স্ত্রীকে জানান যে, তাকে ওয়াহিদ, রিফাত, সালাম, জামাল ও সাগর নামের কয়েকজন ব্যক্তি নরসিংদী জেলার বেলাবো থানার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকায় নিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, তাকে সেখানে মারধর করা হচ্ছে এবং দ্রুত মুক্তিপণের টাকা দিয়ে তাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে বলেন।
তাহের মিয়ার দাবি, অপহরণের সময় তার কাছে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকা অপহরণকারীরা ছিনিয়ে নেয়।
পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে তাহেরের স্ত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর নরসিংদী জেলার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে অপহরণকারীরা স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে নরসিংদী পুলিশ তাহেরের স্ত্রীকে পরামর্শ দেয় যে, যেহেতু অপহরণের ঘটনা মতিঝিলে ঘটেছে, তাই মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করলে আইনি প্রক্রিয়ায় কার্যকর সহযোগিতা করা সম্ভব হবে।
এ সময় ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী তাহেরের স্ত্রীকে একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তিনি মতিঝিল থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার দ্রুত বিষয়টি গ্রহণ করে ভিকটিমকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মতিঝিল থানায় অবস্থানকালে অভিযুক্ত ওয়াহিদ বারবার ফোন করে গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই মুক্তিপণের টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাহের মিয়াকে হত্যা করার হুমকি দেন।
তবে নরসিংদীর বেলাবো থানার পুলিশের বিরুদ্ধে উদ্ধার অভিযানে যথাযথ ভূমিকা না রাখার অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়েও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে ফিরে আসে।
এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য জানা গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
ঘটনাটি মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার এবং তাহের মিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button