
সিনিয়র রিপোটার:
বিআরটিএ-র রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম আর দুর্নীতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রবাদ মেনেই বলতে হচ্ছে— “সর্বাঙ্গে ব্যথা, মলম দিবে কোথা?” বিশেষ করে খিলক্ষেতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফিল্ড টেস্ট বোর্ড এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদ। অভিযোগ উঠেছে, বিআরটিএ-র তথাকথিত এই ‘পরীক্ষা বোর্ড’ আসলে এক পরিকল্পিত ঘুষবাজির আখড়া, যার কলকাঠি নাড়ছেন খোদ মোটরযান পরিদর্শক জিয়াউর রহমান জিয়া এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এফ-পি’র (ফেল-পাশ) গেড়াকল ও ‘টাকার মেশিন’
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমানের আমল থেকে শুরু করে দীর্ঘ প্রায় আট-নয় বছর ধরে খিলক্ষেত ড্রাইভিং লাইসেন্স বোর্ডে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছেন ইন্সপেক্টর জিয়া। ফিল্ড টেস্টের নামে ‘ফেল-পাশ’ বা এফ-পি বাণিজ্যের এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। সাধারণ রিকশা, ভ্যান বা সিএনজি চালকদের মতো অসহায় মানুষের রক্ত চুষে প্রতি মাসে এই বোর্ড থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিজ এলাকা দোহারে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘টাকার মেশিন’ হিসেবে। মাঝে কিছুকাল অভিযোগের মুখে কোণঠাসা থাকলেও, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় আবারও ফিরে এসেছেন নিজের পুরনো আস্তানায়। বর্তমানে খিলক্ষেতের এই বোর্ডটি ঢাকার অন্যান্য সার্কেলের তুলনায় ঘুষের সবচেয়ে নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
জিয়ার সাথে শ’খানেক দালাল ইন্সপেক্টর জিয়ার এই বিশাল সাম্রাজ্য একলা চলেন না। তার ছত্রছায়ায় রয়েছে শ’খানেক ‘হলদে দালাল’ এবং ফয়সাল নামের আরেক ইন্সপেক্টর। বিগত সরকারে আমলে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রীর আশীর্বাদে মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়া জিয়া এখন রীতিমতো আঙুল ফুলে কলাগাছ। ইকুরিয়া থেকে শুরু করে বর্তমানে খিলক্ষেত—যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই এফ-পি বাণিজ্যের চাবিকাঠি নিজের হাতে রেখেছেন। অভিযোগ আছে, দালালদের মাধ্যমে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ ‘ম্যানেজবাজি’র কাজে ব্যয় করে তিনি বারবার দায়মুক্তি পাচ্ছেন।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার অসহায় গ্রাহকদের জিম্মি করে অর্জিত এই কালো টাকায় জিয়া ঢাকা, কক্সবাজার এবং নিজ গ্রাম দোহারে গড়ে তুলেছেন নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ। নামমাত্র চাকরিতে থেকে কীভাবে একজন পরিদর্শক এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলেও রহস্যজনকভাবে নীরব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা বনাম সিন্ডিকেটের মহোৎসব
বিআরটিএ হেড অফিসের কর্মকর্তারা যখন বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক তখনই ঢাকার সার্কেলগুলোতে চলছে সিন্ডিকেট ভিত্তিক ঘুষের মহোৎসব। খিলক্ষেতের এই ড্রাইভিং লাইসেন্স বোর্ডটি এখন আর দক্ষতা যাচাইয়ের স্থান নেই, বরং এটি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন—সাধারণ মানুষের রক্ত চোষা এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামবে কবে? নাকি বিআরটিএ-র এই ‘সর্বাঙ্গের ব্যথা’ কোনোদিনও নিরাময় হবে না? (ইন্সপেক্টর জিয়ার অবৈধ সম্পদের বিস্তারিত খতিয়ে দেখলে হয়ত বেরিয়ে আসতে পারে থলের বিড়াল.



