উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কাছে ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

বশির আহমেদ: নরসিংদীর শিবপুরে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কার্যালয় থেকে মাত্র প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া দক্ষিণপাড়া (বাঁশবাজার সংলগ্ন এলাকা) ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে মানহীন কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই নির্মাণকাজ চললেও শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান , প্রায় ২০০৪ সালে পাকা করা রাস্তাটি দিয়ে কয়েকশ মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। দীর্ঘ প্রায় ১০-১২ বছর ধরে রাস্তাটিতে ড্রেন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যক্তির কাছে ধরনা দেওয়ার পর অবশেষে প্রায় ১৫ দিন আগে ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হয়।
তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণসামগ্রীর মান ও কাজের পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের পাথরের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বালু ও আবর্জনা মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের ও ভাঙা ইট ব্যবহার এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ড্রেনের ওপর নির্মাণ করা স্ল্যাব দুই ইঞ্চিরও কম। ফলে এসব স্ল্যাব কতদিন টেকসই থাকবে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭-৮ মাস আগে নির্মাণ করা ড্রেনের কয়েকটি স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ার চিত্রও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের এত কাছে একটি নির্মাণকাজের মান যদি এমন হয়, তাহলে উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী এলাকার উন্নয়নকাজগুলো কীভাবে তদারকি করা হচ্ছে?
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। তাদের অনেক সময় জানানো হয়, কর্মকর্তারা সাইটে রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি অধিকাংশ সময় কর্মকর্তারা সাইটে থাকেন, তাহলে এসব নির্মাণকাজে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি হচ্ছে কি না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবল কী ধরনের কাজ করছেন—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কাজে নিয়োজিত শিবপুর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজিব মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার অনুপস্থিতিতে কাজটি করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। আমি সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে কাজের মান ও অন্যান্য বিষয় দেখব। এরপর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করা হবে।”



