চট্টগ্রাম ভ্যাট কার্যালয়ে ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

নাছির হাওলাদার চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম ভ্যাট কার্যালয়কে ঘিরে রাজস্ব আদায়ের নামে অনিয়ম ও কথিত ‘ঘুষ বাণিজ্য’র অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করা হচ্ছে। এতে হয়রানি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ রয়েছে, ভ্যাট সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ, নথি যাচাই, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কিংবা রাজস্ব নির্ধারণের সময় কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধ করার কথা, তার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ অনুভব করেন তারা। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনাগ্রহী; তাদের আশঙ্কা, অভিযোগ করলে পরবর্তীতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে হয়রানির শিকার হতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন রাজস্ব আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে যদি অনিয়মের অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে অর্থ লেনদেন হচ্ছে, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সদরঘাট ভ্যাট কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া ছাড়া কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়।
সচেতন ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি লেনদেনের যথাযথ রসিদ, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে, অন্যদিকে অনিয়মের সুযোগও কমবে।



