আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হচ্ছে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: দেশের সাধারণ মানুষের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ ও থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ আন্তর্জাতিক হাসপাতালের আদলে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ‘ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস’ চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিএমইউ সূত্র জানায়, হাসপাতালটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ প্রশাসনিক ব্যবস্থার বাইরে একটি ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি’র অধীনে পরিচালিত হবে। নবগঠিত কাঠামোর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ এবং সরকারের ১০ শতাংশ শেয়ার থাকবে।
হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান বা চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন বিএমইউর উপাচার্য এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একজন উপ-উপাচার্য। এ ছাড়া পেশাদার করপোরেট হাসপাতাল পরিচালনায় অভিজ্ঞ একজনকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, দ্রুততম সময়ে সিইও নিয়োগ প্রদান ও সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করে ধাপে ধাপে হাসপাতালটির পূর্ণ সেবা চালু করা হবে।
হাসপাতালটিতে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে নিজস্ব চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। বিএমইউর বর্তমান সরকারি চিকিৎসক বা নার্সরা সরাসরি এখানে দায়িত্ব পালন করবেন না; তবে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বা উন্মুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে যে কেউ এখানে যোগ দিতে পারবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের জন্য বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এর বিনিময়ে হাসপাতাল থেকে আকর্ষণীয় বেতন ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার মতো সহায়ক কাজগুলো আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
৭৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই বিশেষায়িত হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানের জন্য ৫টি মূল কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে: ১. কার্ডিও অ্যান্ড সেরিব্রোভাসকুলার সেন্টার
২. হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার
৩. মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার
৪. কিডনি রোগ ও ইউরোলজি সেন্টার
৫. জরুরি ও ট্রমা সেন্টার
এছাড়াও হাসপাতালে ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), ১০০ শয্যার জরুরি ইউনিট, ৬টি ভিভিআইপি, ২২টি ভিআইপি এবং ২৫টি ডিলাক্স কেবিন স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করা হলেও নির্দিষ্ট জনবল ও স্বতন্ত্র বাজেটের অভাবে এ যাবৎ সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়ে আসছিল। হাসপাতালের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়।
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, করপোরেট মডেলে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশি রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।



