দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে স্বর্ণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ, নারী গ্রেপ্তার

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা পাঁচ ভরি এক রতি এক পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার এজাহারনামীয় আসামি লাইলাতুল নুসরাত নিপা (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকার বেশি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাদীর বোন লাইলাতুল নুসরাত নিপা তার জায়ের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে বাদীর স্ত্রী সাবরিনা আক্তার ও মায়ের কাছ থেকে ৮ ভরি ৮ আনা ওজনের বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। পরে এসব স্বর্ণালংকার বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ অক্টোবর চকবাজার থানায় পেনাল কোডের ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় মামলা করা হয়। মামলা দায়েরের পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের নির্দেশনায় চকবাজার থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর খুলশী থানাধীন বাগঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাইলাতুল নুসরাত নিপাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি জানান, আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকারগুলো কোতোয়ালি থানাধীন দিদার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত ‘নোভা জুয়েলার্স’ নামের একটি দোকানে বিক্রি করেছেন। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ।
এ সময় দোকানটির ম্যানেজার শুভ মজুমদারের উপস্থাপন এবং গ্রেপ্তার আসামির শনাক্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অলংকারের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণের আংটি, কানের দুল, হাতের বালা, গলার চেইন ও অন্যান্য কানের অলংকার। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের ওজন পাঁচ ভরি এক রতি এক পয়েন্ট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকার বেশি।
পুলিশ জানায়, দোকানের ম্যানেজারের বক্তব্য অনুযায়ী, আসামি ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্রে স্বর্ণালংকার কেনাবেচা ও পরিবর্তনের সম্পর্ক ছিল। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কেনা স্বর্ণ গলিয়ে বিভিন্ন ধরনের অলংকার তৈরি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



