হজরত মুসা (আ.)-এর ঐতিহাসিক দোয়া এবং প্রাত্যহিক জীবনে এর গুরুত্ব

ইসলামিক বিচিত্রা ডেস্ক: মানবজীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মানুষের বুক কাঁপে, গলার স্বর রুদ্ধ হয়ে আসে কিংবা কথা গুছিয়ে বলা কঠিন হয়ে পড়ে। ইতিহাসের পাতায় এমন এক চরম সংকটময় মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন মহান আল্লাহর রাসুল হজরত মুসা (আ.)। যখন তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম ক্রুর ও দাম্ভিক শাসক ফেরাউনের সামনে সত্য ও ন্যায়ের বার্তা নিয়ে কথা বলার জন্য পাঠানো হয়েছিল, তখন তাঁর সামনে ছিল বিরাট এক মানসিক ও বাচিক চ্যালেঞ্জ।
কারণ, মুসা (আ.)-এর কথা বলায় কিছুটা জড়তা বা স্পষ্টতার ঘাটতি ছিল। এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি মহান আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত বিনীতভাবে একটি দোয়া করেছিলেন, যা পবিত্র কুরআনের সুরা ত্ব-হার ২৫ থেকে ২৮ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে:
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
উচ্চারণ: রাব্বিশ রাহলী সাদরী, ওয়া ইয়াসসির লী আমরী, ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানী, ইয়াফকাহু কাওলী।
অর্থ: “হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যেন তারা আমার কথা বুঝতে পারে।”
দোয়ার তাৎপর্য ও জীবনের চার বড় সমস্যার সমাধান
হজরত মুসা (আ.)-এর এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত গভীর দোয়াটিতে মূলত মানুষের জীবনের চারটি বড় বাধার সুনির্দিষ্ট সমাধান রয়েছে: ১. বুক প্রশস্ত হওয়া: অন্তরের ভয়, জড়তা ও আতঙ্ক দূর করে সাহসিকতা ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা।
২. কাজ সহজ হওয়া: যেকোনো কঠিন বা জটিল পরিস্থিতিতে আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজ পথ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া।
৩. জিহ্বার জড়তা দূর হওয়া: কথা বলার সময় জড়তা কেটে গিয়ে বাক্য ও উচ্চারণ স্পষ্ট ও সাবলীল হওয়া।
৪. শ্রোতার বোধগম্যতা: শ্রোতা বা সামনের মানুষ যেন বক্তার উদ্দেশ্য ও বক্তব্য খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারে।
প্রাত্যহিক জীবনে এই দোয়ার কার্যকারিতা
এই ঐতিহাসিক দোয়াটি কেবল নবীদের জীবনের সাথেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুমিন জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটময় মুহূর্তে এটি দারুণ এক আত্মিক শক্তি জোগায়।
- চাকরির ইন্টারভিউ: নতুন কর্মসংস্থান বা ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে বসার আগে বুকভরে সাহস ও স্পষ্টতার জন্য এই দোয়া পড়া অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
- ক্লাস প্রেজেন্টেশন বা বক্তৃতা: জনসমক্ষে বা শ্রেণিকক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্নায়ুর চাপ ও মুখের জড়তা কাটাতে এটি অতুলনীয়।
- বসের বা কর্তাব্যক্তির সাথে কঠিন আলাপ: কর্মক্ষেত্রে কোনো জটিল আলোচনা বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মনের জোর বাড়াতে এই আমল করা যেতে পারে।
- পারিবারিক ও সামাজিক জরুরি কথা: পরিবার বা সমাজে কোনো গুরুতর বা সংকটপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সময় সঠিক ভাষা ও প্রজ্ঞা পাওয়ার জন্য এটি পাঠ করা যায়।
অতএব, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে বা কথা বলতে যাওয়ার পূর্বে এই দোয়াটি নিজের অভ্যাসে পরিণত করা যেতে পারে। এটি অন্তরে যেমন প্রশান্তি এনে দেয়, তেমনি কথা ও কাজে সফলতা অর্জনে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য নিশ্চিত করে।



