আইন-শৃঙ্খলা

চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী জীবন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েল

দুলাল শিকদার: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান জুয়েল ও তাঁর সহযোগী মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স টিম (এসআরবি)। একই সঙ্গে নগরীর চান্দগাঁও থানায় চুরির অভিযোগে মো. হাসানকে পিটিয়ে হত্যার মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত মো. আলম পাইককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর রাতে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জীবন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আরমানকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-৭ চট্টগ্রাম ও এসআরবি-১১ নারায়ণগঞ্জের যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

এরপর ২ নভেম্বর রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান জুয়েলকে (৪০) গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৭ চট্টগ্রাম ও এসআরবি-১ ঢাকার যৌথ দল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের মোহাম্মদ গোলাম নবীর ছেলে। তিনি পরিবারসহ চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বসবাস করতেন। শেরশাহ এলাকায় একটি আইসক্রিম কারখানায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় তিন-চার মাস আগে জিল্লুর রহমান জুয়েলের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন জীবন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জেরে তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় জীবনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ তাঁর সহযোগীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো ছুরি নিয়ে জীবনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। বিশেষ করে ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত গুরুতর কাটা জখম হয় তাঁর।

হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি ২৮ অক্টোবর দায়ের করা হয়। প্রথমে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক ধারায় মামলা হলেও পরবর্তী সময়ে এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানায় চুরির অভিযোগে মো. হাসানকে পিটিয়ে হত্যার মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত মো. আলম পাইককে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের আরেকটি আভিযানিক দল।

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলম পাইকের অবস্থান চান্দগাঁও এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে ২ নভেম্বর দুপুর ১টা ১০ মিনিটে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন আরকান রোডের চাঁদগাঁও হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আলম পাইক (৩৫) বাগেরহাট সদর উপজেলার হরিখানা গ্রামের মো. খলিল পাইকের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নগরে চুরির অভিযোগে মো. হাসানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা চান্দগাঁও থানার ২৬ অক্টোবরের ৩৮ নম্বর মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত।

এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button