আইন-শৃঙ্খলা

চট্টগ্রামে ডিবির অভিযানে এলজি ও কার্তুজসহ গ্রেপ্তার ১, অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত লেগুনা জব্দ

মুহাম্মদ জুবাইর: বিক্রির উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার সহযোগী নিজাম উদ্দিন পলাতক, তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণার মামলা

চট্টগ্রাম নগরীতে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি কেনাবেচার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও এক রাউন্ড সীসার কার্তুজসহ মো. মিজানুর রহমান (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি-পশ্চিম)। এ সময় অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত একটি লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় তার সঙ্গে থাকা নিজাম উদ্দিন (২৮) নামে অপর এক ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন টেক্সটাইল এম. আলম গ্যাস স্টেশনের দক্ষিণ পাশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান ও দায়িত্ব পালনকালে ডিবি-পশ্চিম বিভাগের একটি আভিযানিক দল গোপন সূত্রে খবর পায়, বায়েজিদ বোস্তামী থানার টেক্সটাইল এম. আলম গ্যাস স্টেশন এলাকায় দুই ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্র ও গুলি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তারা একটি লেগুনায় অবস্থান করে অস্ত্র ও গুলি লেনদেনের চেষ্টা করছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।

এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি-পশ্চিমের আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় লেগুনার ভেতরে অবস্থানরত দুই ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে মো. মিজানুর রহমানকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে তার সহযোগী নিজাম উদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তার মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার দেখানো ও শনাক্তমতে লেগুনার চালকের আসনের নিচে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখানে রাখা একটি ব্যাগের ভেতর থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও এক রাউন্ড সীসার কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র ও কার্তুজ পরিবহনে ব্যবহৃত চট্ট-মেট্রো-ছ-১১-৪১৩৪ নম্বরের লেগুনাটি জব্দ করে ডিবি পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান উদ্ধার করা অস্ত্র ও কার্তুজ বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে উদ্ধার করা অস্ত্র ও কার্তুজের কোনো বৈধ লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধার করা অস্ত্র ও কার্তুজ অবৈধভাবে কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি পলাতক সহযোগী নিজাম উদ্দিনের অবস্থান শনাক্ত ও তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. মিজানুর রহমান ও পলাতক নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, পলাতক আসামি নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নগরের হালিশহর থানায় একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। তার অপরাধসংক্রান্ত তথ্য এবং উদ্ধার করা অস্ত্রের উৎস ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, সংরক্ষণ ও কেনাবেচা প্রতিরোধে নগরজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button