
মুহাম্মদ জুবাইর
দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নারীর সক্রিয় ভূমিকা জরুরি: মেয়র শাহাদাত
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে চট্টগ্রামে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব সমাজকে আরও শক্তিশালী ও সহনশীল করে তুলতে পারে।
রোববার (৮ মার্চ) নগরীর Hotel Agrabad-এর কনফারেন্স কক্ষে Young Power in Social Action (YPSA) আয়োজিত “আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় নারীদের সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন Mohammad Shahadat Hossain।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দুর্যোগপ্রবণ চট্টগ্রামে পাহাড়ধসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নারীরা প্রায়ই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই নারীদের কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে নয়, বরং সাহসী স্বেচ্ছাসেবক ও সামাজিক পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার বাস্তবায়নে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কমিউনিটি পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সামাজিক সহনশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মেয়র আরও বলেন, ইপসা ইতোমধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে নারী স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারীদের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। এ ধরনের স্বীকৃতি তাঁদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে উৎসাহ জোগাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Md. Arifur Rahman, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ Bichitra Sen, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সংগঠক Basna Muhuri এবং সাংবাদিক Bhuinya Nazrul। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইপসার প্রজেক্ট ম্যানেজার Sanjida Akter এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রজেক্ট অফিসার Muhammad Ataul Hakim।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং সংগঠিত অংশগ্রহণ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কয়েকজন কৃতিমান নারীর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প নিয়ে একটি সচিত্র ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়। প্রান্তিক পর্যায়ের কয়েকজন নারী তাঁদের সংগ্রাম ও সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা উপস্থিতদের অনুপ্রাণিত করে। এ ছাড়া অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরিতে একটি কুইজ পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।
শেষে দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ৭০ জন নারী স্বেচ্ছাসেবক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি মেয়র ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।


