ঢাকা বিভাগ

নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগে ঘোড়াশালে কন্টেইনার ডিপো নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় প্রস্তাবিত কন্টেইনার ডিপো নির্মাণকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও মারাত্মক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় এই ডিপো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াশাল রেলওয়ে ফ্লাগ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ডিপো স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রাথমিক সীমানা নির্ধারণ করে মাইকিং করে  বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।  সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে  দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

প্রস্তাবিত ডিপোর আওতায় ঘোড়াশাল সাদ্দাম বাজার থেকে মুসা বিন হাকিম ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এখানে রয়েছে একটি ডিগ্রি কলেজ,প্রাথমিক বিদ্যালয়,পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, মসজিদ, মাদ্রাসা, নিবন্ধিত খেলাধুলা করার ক্লাব, সরকারি ডাকঘরসহ ঐতিহ্যবাহী পাল পাড়া। এসব স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

ঘোড়াশাল সাদ্দাম বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছি। মাঝেমধ্যে বাজার উচ্ছেদ করা হয়, ভাঙচুর হয় অনেক কষ্টে টিকে আছি। এখন আবার ডিপোর কথা শুনছি। পলাশ এলাকায় অনেক শিল্পকারখানা থাকলেও স্থানীয়দের কর্মসংস্থান খুবই সীমিত।

স্থানীয় আদি বাসিন্দা ও প্রবীণ সিনিয়র সাংবাদিক, কবি শাহ বোরহান মেহেদী বলেন, ডিপো হলে আবাসিক পরিবেশ নষ্ট হবে। শব্দ- দূষণের কারণে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

মুসা বিন হাকিম ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক বলেন, “উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের প্রকল্প হলে পড়াশোনায় ব্যঘাত ঘটবে। ভারী যানবাহনের শব্দে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে ‘আইসিডি ও কন্টেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) নীতিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী, নতুন কন্টেইনার ডিপো স্থাপনের ক্ষেত্রে তা শহর বা পৌরসভার বাইরে এবং আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দূরে হওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রস্তাবিত স্থানটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এসব শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়।

প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সহকারী পরিচালক  প্রশান্ত জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। এছাড়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button