মুহাম্মাদ জুবাইর: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি-উত্তর) এর একটি বিশেষ অভিযানে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কার্যকলাপ এবং নাশকতার পরিকল্পনায় গোপন বৈঠক করার সময় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের ১৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং সাম্প্রতিক সময়ে তারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।
উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিবি (উত্তর) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় ০৩ মে ২০২৬ ইং তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি (উত্তর) বিভাগের একটি চৌকস টিম চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন নয়াবাজার বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থিত এস.এস. টাওয়ারের ৪র্থ তলায় তায়েফ গার্ডেন রেস্তোরাঁর পার্টি হলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে দেখা যায়, সেখানে একদল ব্যক্তি গোপনে সমবেত হয়ে বৈঠক করছে। সন্দেহজনক পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে আটক করে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, মোঃ শহিদুল ইসলাম (৩৭), যিনি নিজেকে ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান হিসেবে পরিচয় দিতেন; মোঃ নয়ন (১৯); মেহেদী হাসান সোহান (২১); মোঃ ইব্রাহীম (২৪); সাজ্জাদ হোসেন রাকিব (২৪); মোঃ ঈসমাইল (২৬); রবিউল ইসলাম রাজু (২০); মোঃ সাকিল খান (২০); মোঃ রাজিব (২৯); মোঃ আশরাফুল (১৯); জাহেদ হোসেন (৩৪); মোঃ আরিফ (২৫); মোঃ রাফি (২০) এবং ইমাম হোসেন (৩০)। তারা সবাই বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে এই গোপন বৈঠকে অংশ নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গ্রেফতারকৃত শহিদুল ইসলামের হেফাজত থেকে উদ্ধারকৃত দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনি ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ পরিচালনা করতেন। এছাড়া ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ’, ‘চট্টগ্রাম উত্তর’ এবং ‘ফেনী জেলা’ শিরোনামে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। এসব গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, নির্দেশনা প্রদান এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হতো।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত অন্যান্য আসামিরা এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সক্রিয় সদস্য। তারা শহিদুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী সংগঠিত হয়ে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতা ঘটানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল। গোপন বৈঠকটি মূলত এসব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণের জন্যই আয়োজন করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিবি পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত, যোগাযোগের ডিভাইস এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরবর্তী তদন্তে সহায়ক হবে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে যেকোনো ধরনের নাশকতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বসাধারণকে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানায় অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।



