পদে পদে অর্থ আদায়: আয়াদের কাছে জিম্মি হাম আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা

রোকসানা আক্তার মজুমদার: গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ বিচিত্রার সিনিয়র রিপোর্ট রোকসানা আক্তার মজুমদার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হামের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে একটি অভিযান চালান। এই অভিযানের তথ্য চিত্রে উঠে আসে হাম আক্রান্ত শিশু ওয়ার্ডগুলোতে চরম দূর্নীতির তথ্য, হাম আক্রান্ত শিশুদের পরিবারগুলো সংবাদ মাধ্যমকে জানান, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল একটি সরকারী হাসপাতাল, তবুও রোগী ভর্তি করার সময় কেবিনে সিট পেতে হলে আয়াদের হাতে গুঁজে দিতে হয় ২০০ টাকা, অনেকের অভিযোগ সাপ্তাহ পার হলে গেলেও পরিষ্কার করা হয় না রুমের ফ্লোরগুলো। ৭দিনে একবার ফ্লোর পরিষ্কার করা হলেও প্রতি সিটের রুগীর পরিজনকে গুনতে হয় আরও ২০ টাকা, নাস্তা বাবদ দিতে হয় ৩০ টাকা করে।
এক রুগীর পরিবার সংবাদ মাধ্যমকে জানান আমার কাছ থেকে ময়লা বাবদ ২০০ টাকা নেওয়ার পরও বালতির ময়লা আমাকেই পরিষ্কার করতে হয়েছে, আয়ারা পরিষ্কার করে না। হাম আক্রান্ত শিশুদের আরেক অভিভাবক জানান সকাল ৮টার ইনজেকশন বেলা গড়িয়ে বিকেল ৩টা বাজে এখনও আমার বাচ্চা পায়নি ইনজেকশন। একদিন আগে পরিক্ষা নিরিক্ষার রিপোর্ট এসে পড়ে আছে কিন্তু রির্পোট বিংবা রোগী দেখতে আসেনি কোন ডাক্তার দেওয়া হয়নি চিকিৎসা সেবা। শিশু ওয়ার্ডে এপ্রিলের ৯তারিখ রিয়াদ নামক ৪বছরের একটি শিশু মারা যাওয়ার পর ১মাস ৮দিনের মিলেনি মৃত্যুর সার্টিফিকেট। স্বজনরা ঘুরছেন হাসপাতালে বারান্দায়।
অনেকের অভিযোগ ও তথ্য সংগ্রহের পর ইন্টারনি ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরা কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওনি জানান এই অভিযোগগুলো আমিও কিছুটা শুনেছি অনেকদিন ধরে চলে আসছে এই অবস্থা, মৃত্যুর তথ্য সংখ্যা জানতে চাইলে, উনি জানান গত এক সপ্তাহে মারা গেছেন ৩ জন হাম আক্রান্ত শিশু।
হাম ওয়ার্ডগুলোর দায়িত্বাধীন ডা. আবু হানিফকে ফোন করেন সংবাদ মাধ্যম হামের আক্রান্ত ও মৃত শিশুর পরিসংখ্যান জানতে চাইলে ওনি জানান মার্চের ২৪ তারিখ থেকে মে এর ১৫ তারিখ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১০০৬ জন। আর মৃত শিশুর সংখ্যা ৮ থেকে ৯জন। ইন্টারনি ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরার মৃতুর তথ্যের সাথে তেমন কোন মিল পাওয়া যায়নি এই তথ্যের। ওয়ার্ডগুলোর অনিয়ম সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যম জানতে চাইলে ডা. আবু হানিফ বলেন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা.মিয়া মনজুর আহমেদ স্যার বলতে পারবেন।
বিভাগীয় প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদকেও অফিসে না পেয়ে ফোন কলে ওয়ার্ডগুলো বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানালে ওনি জানান আমি এই বিষয়গুলো এখন আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম, আমাকে জানানোর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আমি বিষয়গুলো দেখবো।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে ওনি জানান আমাদের টোটাল ভর্তি ১০৫৪ জন, ঢাকা রেফার করা হয়েছে ৯জন মারা গেছেন ৪জন
ডাইরেক্টর ডা. শাহাজান এর কাছ থেকে আয়াদের বেতন সম্পর্কে জানতে চাইলে জানান ২০২৪ শের জুলাই থেকে আউট সোসিং অফ থাকায় বেতন-বাতা বন্ধ থাকায় আউট সোসিং থেকে ৯০ জনের বেতন ভাতা বন্ধ হয়। বর্তমানে ১৫৩ জনের কাজ ৬৩ জন করছে, যেই ৯০ জন এখন কাজ করছে তাদের জামা ও বেইস থাকার কারণে তারা কাজ করছে কোন বেতন ভাতার ব্যবস্থা নাই তাই তারা নানা ভাবে হয়তো টাকা পয়সা নিচ্ছে।



