বিদ্যানন্দের ১ টাকার কুরবানির বাজারে হাসি ফুটল ৫ শতাধিক পরিবারের মুখে

মুহাম্মদ জুবাইর: “দান নয়, সম্মানের অধিকার”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানবিক সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে ব্যতিক্রমধর্মী ‘১ টাকায় কুরবানির বাজার’। শনিবার (২৩ মে) চট্টগ্রাম নগরীতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রায় ৫ শতাধিক ছিন্নমূল ও দরিদ্র পরিবার মাত্র ১ টাকা নামমাত্র মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্য ক্রয় করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিটি পরিবার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার পণ্য নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সংগ্রহ করেছেন।
সকাল ১১টায় গরিব মানুষের এই ব্যতিক্রমধর্মী “সুপারশপ” উদ্বোধন করেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাল, ডাল, চিনি, সুজি, ডিম, তেল, কাপড়, ব্যাগসহ প্রায় ১৭ ধরনের পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছিল পুরো বাজার। সেখানে মাত্র ১ টাকায় ১ কেজি চাল, ১ কেজি সুজি, ১ টাকায় ৪ প্যাকেট নুডলস কিংবা ৩ টাকায় ১ লিটার তেল পাওয়া গেছে। প্রতিটি পরিবারকে ১০ টাকার ডামি কয়েন দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে তারা প্রায় ৭০০ টাকার পণ্য স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারেন।
মানবতার কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এবারের ঈদকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আরও অর্থবহ করে তুলতেই এই আয়োজন করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এখানে কেউ সাহায্য গ্রহণকারী হিসেবে নয়, বরং সম্মানিত ক্রেতা হিসেবে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস নিজেই বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “দরিদ্র মানুষের নাগরিক সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে সহায়তা করার যে অভিনব পদ্ধতি বিদ্যানন্দ চালু করেছে, তার জন্য তারা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে ঈদকে আনন্দময় করতে তারা যেভাবে অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটি অত্যন্ত মানবিক উদ্যোগ। আশা করি বিদ্যানন্দের এই যাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
আয়োজকরা জানান, এই আয়োজন কেবল সহায়তা প্রদান নয়; বরং মানুষের সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার একটি অনন্য প্রয়াস। বিদ্যানন্দ বিশ্বাস করে, সাহায্য এমনভাবে পৌঁছানো উচিত যাতে গ্রহীতার মর্যাদা অটুট থাকে এবং তারা সমাজের একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবে নিজেকে অনুভব করতে পারেন।
জামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা চাই না কেউ সাহায্য নিতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করুক। ঈদ সবার জন্য আনন্দের—সেই আনন্দ যেন সম্মানের সাথে প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
বিদ্যানন্দের এই উদ্যোগ সমাজের বিত্তবানদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে, সহযোগিতা শুধু দান নয়, বরং ভালোবাসা, সম্মান ও সহমর্মিতা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম। সংগঠনটি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এমন মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সম্মিলিতভাবে একটি সহমর্মী ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।



