ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে থাকবে কোলেস্টেরল
স্বাস্থ্য ডেস্ক: বর্তমান সময়ে উচ্চ কোলেস্টেরল বা রক্তে চর্বির আধিক্য একটি বড় স্বাস্থ্যগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শরীরচর্চায় অনীহা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস—মূলত এই চার কারণে শরীরে ‘ক্ষতিকর’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল-এর মাত্রা বেড়ে যায়। রক্তে এই চর্বি বেড়ে গেলে তা ধমনীর দেওয়ালে জমা হতে থাকে, যা পরবর্তী সময়ে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোলেস্টেরল ধরা পড়লেই সবসময় জীবনভর ওষুধ খেতে হবে এমন নয়; বরং দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে একে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: কোলেস্টেরল কমানোর প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন। চিকিৎসকদের মতে, দৈনিক খাদ্যতালিকা থেকে ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড, প্যাকেটজাত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং রেড মিট (গরু বা খাসির মাংস) যতটা সম্ভব বাদ দেওয়া জরুরি। এসব খাবারে থাকা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, ব্রাউন রাইস, ডাল এবং প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। আঁশযুক্ত খাবার শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বি শোষণ করে তা বের করে দিতে সাহায্য করে।
উপকারী চর্বি ও ওমেগা-৩: শরীরের জন্য উপকারী ফ্যাট বা ভালো কোলেস্টেরল পেতে কাঠবাদাম, আখরোট ও তিসির বীজ জাতীয় খাবার অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া সপ্তাহে অন্তত দু’দিন সামুদ্রিক মাছ খাওয়া উচিত। সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম: বসা কাজের অভ্যাসের কারণে শরীরে মেদ জমতে থাকে। এটি রোধ করতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো কিংবা যোগব্যায়ামের অভ্যাস করা জরুরি। এতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল বা এইচডিএল-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
বর্জনীয় অভ্যাস ও মানসিক প্রশান্তি: ধূমপান ও মদ্যপান সরাসরি কোলেস্টেরলের মাত্রাকে প্রভাবিত করে, তাই হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে এসব অভ্যাস ত্যাগ করা অপরিহার্য। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত টেনশন বা মানসিক অস্থিরতা শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন ও সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।



