প্রবাসী অপহরণ মামলায় ফতুল্লা থানার ওসিকে আদালতের শোকজ
মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত। দুবাই ফেরত এক প্রবাসী যুবককে অপহরণ, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় আদালতের নির্দেশ যথাসময়ে পালন না করায় এ আদেশ দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটি সরাসরি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চর মুক্তারপুর এলাকার সাহিদা বেগমের ছেলে বাবু (২৫) দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। গত ১৪ মে রাতে দেশে ফেরার পথে ফতুল্লার কাশীপুর ব্রিজ এলাকায় তার গাড়ির গতিরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গোগনগর এলাকার সাদ্দাম হোসেন, আকরাম প্রধানসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন বাবুকে একটি আস্তানায় আটকে রেখে তার কাছে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। পরে মুক্তির জন্য আরও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ফতুল্লা মডেল থানার ওসিকে প্রাথমিক তদন্ত করে তিন ঘণ্টার মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিবেদন জমা না পড়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপহরণের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি, সে বিষয়ে ওসিকে কারণ দর্শাতে হবে।
এদিকে আদালতের কঠোর অবস্থানের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত প্রবাসী বাবুকে উদ্ধার করে। তবে ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা ও প্রাথমিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, “ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।” আদালতের শোকজ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো আদেশ এখনো তার হাতে পৌঁছেনি। এছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালত ভিকটিম উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন, গ্রেফতারের বিষয়ে কিছু বলেননি।



