অপরাধচট্টগ্রাম

সিইউএফএলে দরপত্র নিয়ে নয়ছয়, ই-জিপি এড়িয়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই হরিলুট

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)এ ব্যাগিং, স্ট্যাকিং, ক্লিনিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের ঠিকাদার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, সিন্ডিকেট বাণিজ্য ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যেখানে সারা দেশে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া এখন ইজিপি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে, সেখানে রহস্যজনকভাবে সিইউএফএলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের।
জানা যায়, ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে পুনঃদরপত্রের সিডিউল গত ২৪ মে প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র প্রক্রিয়াকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ ভাগাভাগির চেষ্টা চালায়। স্থানীয়ভাবে বিএনপির প্রভাবশালী গ্রুপের সমঝোতার মাধ্যমেই টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে একই কাজের জন্য প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার দরপত্র জমা পড়ে। তবে সেটিকে অতিরিক্ত দর উল্লেখ করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে মে মাসে পুনঃদরপত্রে দর আরও বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছে যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে যে দরকে আগে অতিরিক্ত বলা হয়েছিল, পুনঃদরপত্রে আরও বেশি দর কীভাবে গ্রহণযোগ্য হলো?

অভিযোগকারীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ম্যানুয়াল টেন্ডারের সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দর নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ইজিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার হলে সারা দেশের ঠিকাদাররা অংশ নিতে পারতেন এবং প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু ম্যানুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করায় সীমিত গোষ্ঠীর বাইরে কেউ কার্যত অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।

সচেতন মহল বলছে, রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে এমন অস্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া শুধু সরকারের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং এতে কোটি কোটি টাকার অপচয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার

এ বিষয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, এপ্রিল মাসে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার টেন্ডার জমা পড়েছিল। তখন সেটিকে অতিরিক্ত মনে হওয়ায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে মে মাসে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকার দরপত্র জমা পড়ে। এখানে আমি একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নই, একটি কমিটি রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন ইজিপি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলেন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে করা হয়েছে বলে জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button