চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৩ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ডবলমুরিং থানার বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ১৩ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিছিলে ব্যবহৃত দুটি যাত্রীবাহী বাস, লাঠি, সাদা কাপড়ের টুকরা এবং ইটের টুকরাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে বন্দর থানাধীন বারেক বিল্ডিং এলাকার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ভবনের দক্ষিণ পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী জড়ো হন। অভিযোগ রয়েছে, তারা দুটি যাত্রীবাহী বাসে করে ঘটনাস্থলে এসে সমবেত হন এবং পরবর্তীতে একটি মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের মাথায় সাদা কাপড় বাঁধা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন অলিগলি ও সড়কপথ দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ মিছিলে ব্যবহৃত দুটি বাস, চারটি সাদা কাপড়ের টুকরা, ১০টি লাঠি এবং ১৩টি ইটের টুকরা উদ্ধার করে।
ঘটনার পরপরই সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন পদধারী নেতাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো তদন্তের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সিএমপি সূত্র জানায়, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডবলমুরিং থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আলামত, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



