আইন-শৃঙ্খলা

ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, ৯ বছর পর সিআইডির জালে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: গ্রাহকের অজান্তে ক্রেডিট কার্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি সারোয়ার হোসেন (৪০)। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশান থানাধীন কমার্শিয়াল কোভ ভবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, ২০১৭ সালে এক গ্রাহক তার নামে একটি ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর আবেদন করেন। পরে প্রয়োজন না হওয়ায় কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দিলেও সারোয়ার হোসেন তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। একই সঙ্গে ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন, যাতে কার্ড-সংক্রান্ত সব ওটিপি তার কাছেই পৌঁছায়।

পরবর্তীতে ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ব্যক্তি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টে নিজের নামে ঋণের তথ্য দেখে বিষয়টি জানতে পারেন। যদিও তিনি কখনো এ ধরনের ঋণ গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নজরে আনলে অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পায়। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, ভুক্তভোগীর অজ্ঞাতে ২০১৭ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডটির মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকার লেনদেন করা হয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও সুদ ও অন্যান্য দায়সহ প্রায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিআইডি জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় গ্রাহকের প্রতি অর্পিত বিশ্বাসের অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেন। এমনকি ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও তিনি ওই কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সারোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। এছাড়া তিনি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণায় জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃতকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) ইউনিট। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button