দেশ

শৈলকুপায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ, বাবার অপরাধ ঢাকতে মেয়ের অপপ্রচার

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়নের নাগিরাট গ্রামের আমিরুল মুন্সির দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া কন্যার কুদ্দুস মিয়ার বাড়ির পাশের মিজানের নির্মাণাধীন বাড়ির ভিতর নিয়ে ধর্ষণ প্রচেষ্টা করে। এই ঘটনা ঘটে রোজ রবিবার ২৪ শে মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। শিশুটির মা শাবানা জানায় যে সে এদিকে একটা কাজে আসছিল এই সময় তার মেয়ে রাস্তা দিয়ে তাকে খুঁজতে যাচ্ছিল। সেই সময়ে কুদ্দুস মিয়ার সামনে পড়লে সে ধরে নিয়ে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যে আমি আমার মেয়েকে দেখতে না পেয়ে ওই ঘরের ওখানে গেলে আমার উপস্থিতিতে পেয়ে কুদ্দুস মিয়া আমার মেয়েকে ছেড়ে দেয়। তখন আমার মেয়ে, কি ঘটনা তার সাথে ঘটেছে আমাকে বিস্তারিত জানায় । আমি উক্ত ঘটনা লোক লজ্জার ভয়ে আমি দুজনকে জানায়।‌ তবে এটা কাউকে বলতে নিষেধ করে। আমার ছেলে হাফিজ মুন্সি ২৬ তারিখে ঢাকা থেকে বাড়ি আসলে আমি তাকে বিষয়টা বলি নাই। ঈদের দুই দিন পর ৩০ শে মে আমার স্বামী ঢাকা থেকে বাড়িতে আসলে ঘন্টাখানেক পর বিকাল ২টার দিকে আমি ঘটনাটা তাকে বলি। আমার স্বামী উক্ত ঘটনা জানতে পেরে তখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ধর্ষণ প্রচেষ্টাকারী কে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনা কে কেন্দ্র করে কুদ্দুস মিয়ার স্ত্রী এবং কন্যা গত ৮ই জুন শৈলকূপা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে কুদ্দুস মিয়ার কন্যা জান্নাতুল সুমাইয়া জেমি তার লম্পট পিতার কৃতকর্ম ঢাকতে আমার ছেলের নামে জঘন্যতম অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। সে বলে যে আমার স্বামী ঢাকাতে ইস্কাটন গার্ডেন রোডে ৬/১ ট্রায়াম্প টাওয়ারে কেয়ারটেকারের কাজ করে সে ঈদের ২ দিন পরে ৩০ তারিখে বাড়ি এসেছে। তাছাড়া আমার ছেলে হাফিজার মুন্সি ঢাকাতে একটি কোম্পানিতে চাকরি করে শেষ ২৬ তারিখে বাড়ি এসেছে। আমার ছেলে যেহেতু বাড়ি থাকেনা সেহেতু কিভাবে ওই মেয়েকে কূপ্রস্তাব দিয়েছে ?

হাফিজার মুন্সির সাথে এই প্রসঙ্গে কথা বললে সে বলে যে আমি ঢাকাতে চাকরি করি ওয়ালটন কোম্পানিতে। আমি সেখানে ২৬ তারিখ পর্যন্ত ডিজিটাল হাজিরা দিয়েছি তার কাগজপত্র আছে। সে বলছে যে ২৩ তারিখে আমার নামে আমার মায়ের কাছে নালিশ করেছি। আমি যেখানে বাড়িতে থাকি না সেখানে তাকে কিভাবে উত্তপ্ত করি এটা সে প্রমাণ দিক । পিতার অপকর্মকে ঢাকতে মেয়ে নিজের প্রতি এই জঘন্যতম অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।

পাশের বাড়ির সেলিম মুন্সী বলেন হাফিজার বাড়ি থাকে না সে কিভাবে কুদ্দুসের মেয়ে জেমি কে প্রস্তাব দেয়? নিজের বাবার শিশু ধর্ষণ প্রচেষ্টার মতো জঘন্যতম কাজকে আড়াল করতে এরা আরো জঘন্যতম কাজ করতে পারে বলে সেলিম বলেন।

উল্লেখ্য যে গত ৮ ই জুন ২০২৬ শৈলকুপা প্রেসক্লাবে শিশু ধর্ষণ প্রচেষ্টাকারী কুদ্দুসের মেয়ে এবং স্ত্রী এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে বলে যে আমিরুল মুন্সির ছেলে হাফিজার মুন্সী দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ প্রচেষ্টাকারী কুদ্দুসির মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। যার ফলে কুদ্দুসের স্ত্রী গত ২৩ তারিখে আমিরুলের স্ত্রীর নিকট কুদ্দুসির ছেলের বিষয়ে নালিশ করলে সে তাকে তাড়িয়ে দেয়। এবং বলে যে তাকে দেখে নেবে পরে। এই ঘটনার পরে ৩০ তারিখে আমিরুল মুন্সী ও তার ছেলে পরিকল্পিতভাবে শিশু ধর্ষণ প্রচেষ্টায় অভিনয় সাজিয়ে পুলিশ দিয়ে কুদ্দুসকে গ্রেফতার করেছে। ঐদিনও ঘরের মধ্যে কুদ্দুসের মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে। আমিরুলের ছেলে হাফিজার ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button