রোগ-ব্যাধি ও কষ্ট কি কেবলই যন্ত্রণা নাকি মুমিনের জন্য গুনাহ মাফের অসিলা?

ধর্ম ডেস্ক: মানুষের জীবনে রোগ-ব্যাধি, শোক কিংবা ক্লান্তি আসাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। সাধারণ দৃষ্টিতে একে কেবল কষ্ট মনে হলেও ইসলামি জীবনদর্শনে এর পেছনে লুকিয়ে আছে মহান আল্লাহর গভীর রহমত ও ক্ষমা। পবিত্র হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মুমিন বান্দার প্রতিটি শারীরিক ও মানসিক কষ্ট তার পাপ মোচনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ প্রশস্ত করে।
পার্থিব জীবনে একজন মুসলিম যে সকল প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন, তার প্রতিটি কণার বিনিময়ে আল্লাহ তাকে প্রতিদান দেন। সহিহ বুখারী ও মুসলিম শরিফের এক সুপ্রসিদ্ধ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুসলিম বান্দার ওপর যে কোনো ক্লান্তি, রোগ-ব্যাধি, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ কিংবা উটকো ঝামেলাই আসুক না কেন—এমনকি তার পায়ে যদি একটি সাধারণ কাঁটাও ফোটে—আল্লাহ এর বিনিময়ে তার আমলনামার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।” (সহিহ বুখারী: ৫৬৪১, ৫৬৪২; সহিহ মুসলিম: ২৫৭৩)।
বিপদ বা অসুস্থতা সবসময় শাস্তির লক্ষণ নয়, বরং এটি অনেক সময় আল্লাহর ভালোবাসারও বহিঃপ্রকাশ। প্রিয় নবী (সা.) এর ভাষ্যমতে, “আল্লাহ যার কল্যাণ সাধন করতে চান, তাকে তিনি দুঃখ-কষ্ট ও রোগ-ব্যাধিতে নিপতিত করেন।” (সহিহ বুখারী: ৫৬৪৫)। এর মাধ্যমে মূলত বান্দার ধৈর্য ও তাঁর রবের প্রতি আস্থার পরীক্ষা নেওয়া হয়, যা তাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে।
অসুস্থতার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন কিছু পরীক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামে অত্যন্ত বড় পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চোখের রোগ বা অন্ধত্ব নিয়ে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “আমি যখন আমার কোনো বান্দাকে তার অতি প্রিয় দুটি বস্তু (অর্থাৎ দুই চোখ) হারিয়ে ফেলার মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলি এবং সে সবর বা ধৈর্য ধারণ করে, তখন আমি তার বিনিময়ে তাকে অবশ্যই জান্নাত দান করি।” (সহিহ বুখারী: ৫৬৫৩)।
সাধারণ জ্বরকেও ইসলামে তুচ্ছ করে দেখা হয়নি। একবার এক অসুস্থ সাহাবীকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করো! কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘জ্বর হলো আমার (সৃষ্ট) আগুন, যা আমি দুনিয়াতে আমার মুমিন বান্দার ওপর চাপিয়ে দিই, যেন তা আখেরাতের জাহান্নামের আগুনের বিনিময় বা কাফফারা হয়ে যায়’।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৪৭০)।
সুতরাং, অসুস্থ অবস্থায় ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধারণ করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এই হাদিসগুলো আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, শরীরের প্রতিটি কম্পন এবং প্রতিটি বেদনাই মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে গুনাহ ধুয়ে মুছে ফেলার এক বিশেষ দান। তাই যেকোনো বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধরলে তা দুনিয়া ও আখেরাতে চরম সাফল্যের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।



